আজকের বিজ্ঞানমনস্কতার যুগেও কুসংস্কার যে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তারই এক মর্মান্তিক ছবি সামনে এল পূর্ব বর্ধমানের কালনায়। ভূত তাড়ানোর নামে এক যুবককে হাতে-পায়ে দড়ি বেঁধে আগুনের ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কালনা ২ ব্লকের বৈদ্যপুর পঞ্চায়েতের তালা গ্রামে। এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার ছবি ভাইরাল হতেই হতবাক সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ, তালা গ্রামের বাইশ বছর বয়সি এক যুবকের উপর ‘ভূতে ভর করেছে’, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর গ্রামেরই এক মহিলা ওঝার নির্দেশে সেই যুবকের উপর শুরু হয় অকথ্য অত্যাচার। ঘরের ভিতরে কাপড়ের আড়ালে টানা দু’দিন ধরে যুবককে বেঁধে রেখে শরীরে আগুনের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। তিনি যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও তাঁকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেননি। সেই দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই চতুর্দিক থেকে নিন্দার ঝড় ওঠে।
Advertisement
যুবকের পরিবারের দাবি, বহু বছর আগে তাঁদের পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যু হলেও তাঁর পিণ্ডদান করা হয়নি। সেই আত্মাই নাকি ভূত হয়ে ফিরে এসে যুবকের শরীরে ভর করেছে। এই বিশ্বাস থেকেই ওঝার শরণাপন্ন হন যুবকের মা। ঘটনায় অভিযুক্ত মহিলা ওঝা বর্তমানে পলাতক বলে জানা গিয়েছে।
Advertisement
গ্রামের বহু মানুষ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে না চাইলেও, ঘটনার খবর পৌঁছতেই সক্রিয় হয় বিজ্ঞান মঞ্চ। কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তারা যুবককে উদ্ধার করতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে উদ্যোগ নেয়। কালনা বিজ্ঞান মঞ্চের সহকারী সভাপতি তাপস কুমার কার্ফা বলেন, ‘একবিংশ শতকে ভূতের অস্তিত্ব মানা যায় না। এই ধরনের অপরাধ রুখতে পুলিশ, প্রশাসন, পঞ্চায়েত এবং সচেতন নাগরিকদের একযোগে কাজ করতে হবে।‘
বিজ্ঞান মঞ্চের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই অঞ্চলেই এর আগেও ভূতের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কুসংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাস বর্জন করার বিষয়ে সচেতনতা প্রচারের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। আবার সেই ধরনের প্রচার জোরদার করার দাবি উঠেছে।
Advertisement



