বাংলাদেশের রপ্তানি নীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থার উপর নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে, বাংলাদেশের শিল্প নীতি ও উৎপাদন পদ্ধতি বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত উৎপাদন বৃদ্ধি করে কি না। এই উৎপাদন মার্কিন উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রে ক্ষতি করছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।
সম্প্রতি ঢাকার সংবাদপত্র ‘দ্য মর্নিং স্টার’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর ‘ট্রেড অ্যাক্ট ১৯৭৪’-এর ধারা ৩০১ অনুযায়ী এই তদন্ত শুরু করেছে। এই ধারা সাধারণত বিদেশি দেশের তথাকথিত ‘অন্যায্য বাণিজ্য নীতি’ চ্যালেঞ্জ করতে ব্যবহার করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য বাণিজ্যে প্রায় ৬.১৫ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত রয়েছে। এই উদ্বৃত্তের বড় অংশই এসেছে বস্ত্র শিল্প থেকে।
Advertisement
বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার বস্ত্র ও চামড়া শিল্পসহ মোট ৪৩টি খাতে রপ্তানির জন্য নগদ ভর্তুকি দিয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এই ধরনের ভর্তুকি উৎপাদন বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি করতে পারে। মার্কিন দপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্পেও উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই শিল্পে মন্দার কারণে উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় ব্যবহার অনেক কমে গিয়েছে।
Advertisement
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সিমেন্টের মোট ব্যবহার ছিল প্রায় ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টন, যা দেশের মোট উৎপাদন ক্ষমতার ৪০ শতাংশেরও কম। পরের বছর এই ব্যবহার আরও কমেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘তদন্তের তালিকায় বাংলাদেশের নাম থাকা স্বস্তিদায়ক নয়।’ তবে তিনি মনে করেন, এই তদন্তে যে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে— যেমন উৎপাদন ক্ষমতা, মেধাস্বত্ব অধিকার এবং ভর্তুকি। সেগুলি বাংলাদেশের উপর বড় কোনও প্রভাব ফেলবে না। তাঁর যুক্তি, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প মূলত আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অর্ডারের ভিত্তিতে উৎপাদন করে। তাই অতিরিক্ত উৎপাদনের সম্ভাবনা খুবই কম।
এছাড়াও গত বছর আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করেছে। সংস্থার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশন অনুমোদন করেছে। সরকার ইতিমধ্যেই রপ্তানি ভর্তুকি ধীরে ধীরে কমানোর প্রক্রিয়াও শুরু করেছে।
Advertisement



