• facebook
  • twitter
Friday, 6 March, 2026

এআই সম্মেলনের পরই ধস শেয়ারবাজারে, ১০৬৮ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স

আইটি খাতে বড় ধাক্কা

প্রতীকী চিত্র

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উত্তেজনা, মার্কিন শুল্ক নীতির অনিশ্চয়তা এবং প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ— এই তিনের মিলিত প্রভাবে বড় ধাক্কা খেল ভারতের দেশের শেয়ারবাজার। মঙ্গলবার টানা চার দিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতনের সাক্ষী থাকল বাজার। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাঙ্কিং এবং পরিকাঠামো খাতে ব্যাপক বিক্রির চাপে প্রধান সূচকগুলিতে বড় পতন লক্ষ্য করা যায়।

দিনের শেষে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সেনসেক্স ১,০৬৮.৭৪ পয়েন্ট বা ১.২৮ শতাংশ পড়ে ৮২,২২৫.৯২ পয়েন্টে বন্ধ হয়। একইসঙ্গে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি সূচক ২৮৮.৩৫ পয়েন্ট বা ১.১২ শতাংশ কমে ২৫,৪২৪.৬৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নিফটির ক্ষেত্রে ২৫,৫০০ থেকে ২৫,৬০০ পয়েন্টের স্তরটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই স্তর অতিক্রম করতে পারলে বাজারে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে সূচক যদি ২৫,৩০০ পয়েন্টের নীচে স্থায়ীভাবে নেমে যায়, তাহলে আরও বড় পতনের ঝুঁকি রয়েছে।

Advertisement

এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি। সম্প্রতি তিনি বিশ্বজুড়ে ১৫ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন এবং বিভিন্ন দেশকে বাণিজ্য চুক্তি বজায় রাখার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতীয় বাজারেও।

Advertisement

সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র। নিফটি তথ্যপ্রযুক্তি সূচক ৪.৭৪ শতাংশ পড়ে ৩০,০৫৩.৫০ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে, যা প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি। মার্কিন প্রযুক্তি খাতে সম্ভাব্য ব্যয় হ্রাস এবং বিশ্ববাজারের নেতিবাচক সঙ্কেত এই পতনের মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি রিয়েলিটি সূচকও ২.৫৪ শতাংশ পড়ে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ধাতব খাত তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও সামগ্রিকভাবে বৃহত্তর বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা স্পষ্ট। মিডক্যাপ সূচক ০.৩২ শতাংশ এবং স্মলক্যাপ সূচক ০.৫৫ শতাংশ কমেছে।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সংস্থা জেফারিজ-এর বিশ্ব শেয়ার কৌশল প্রধান ক্রিস্টোফার উড জানিয়েছেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর শেয়ারগুলির মূল্যায়ন বর্তমানে অত্যন্ত উচ্চ স্তরে রয়েছে। যদি বিশ্ব অর্থনীতির গতি মন্থর হয় বা বাণিজ্য উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, তাহলে এই খাতে বড় সংশোধন দেখা যেতে পারে।’

সম্প্রতি দিল্লিতে আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও তার প্রত্যাশিত ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়েনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা অ্যানথ্রপিক এমন প্রযুক্তি এনেছে, যা কোড লেখা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং নথি প্রস্তুতির মতো কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম। ফলে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির ভবিষ্যৎ পরিষেবা চাহিদা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আচরণও বাজারে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে। গত কয়েক মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেওয়ার পর তাঁরা সীমিত পরিমাণে নতুন বিনিয়োগ শুরু করলেও তা বাজারকে স্থিতিশীল করার জন্য যথেষ্ট নয়।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক মনোভাব স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সম্ভাব্য শুল্ক যুদ্ধ এবং প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়— এই সব কারণ মিলিয়ে আগামী দিনে বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement