মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা জোরদার হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন ঘটেছে। তারই ইতিবাচক প্রভাব পড়ল ভারতীয় শেয়ার বাজার এবং মুদ্রা বাজারে। আজ শুক্রবার দেশের দুই প্রধান সূচক সেনসেক্স ও নিফটি শক্তিশালী উত্থান নিয়ে দিন শেষ করেছে। একই সঙ্গে ডলারের বিপরীতে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে ভারতীয় টাকা।
সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং সেশনে বিএসই সেনসেক্স ১,৬৯৪.৬৩ পয়েন্ট বা ২.৩০ শতাংশ লাফিয়ে ৭৫,৫২৭.১৮ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে এনএসই নিফটি ৪৬১.৩০ পয়েন্ট বা প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ২৩,৬২২.৯০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম কমার ফলে ভারতের আমদানি ব্যয় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ বাড়িয়েছে।
শুধু শেয়ার বাজারই নয়, মুদ্রা বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা গিয়েছে। ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকা আগের দিনের ক্ষতি কাটিয়ে ৯৫.১১ স্তরে বন্ধ হয়েছে। বৃহস্পতিবার যেখানে ডলারের মূল্য ছিল ৯৫.৭৬ টাকা, সেখানে একদিনেই প্রায় ০.৭ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে ভারতীয় মুদ্রা।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.৩৪ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৬.৩৬ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ৪.৪৭ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৩.৮৮ ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো গিয়েছে এবং আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এই খবরের পরই বিশ্ব বাজারে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ অনেকটাই কমে যায়।
শেয়ার বাজারে সবচেয়ে বেশি উত্থান দেখা গিয়েছে রিয়েলটি, ব্যাঙ্কিং এবং আর্থিক পরিষেবা খাতে। নিফটি রিয়েলটি সূচক ৩.৫২ শতাংশ বেড়েছে। নিফটি ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস ৩.১৫ শতাংশ এবং নিফটি ব্যাঙ্ক ২.৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাঙ্কিং শেয়ারের জোরালো উত্থান বাজারকে উপরে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
সেনসেক্সের শেয়ারগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে বাজাজ ফিনান্স, যার শেয়ার ৫.৬৫ শতাংশ বেড়েছে। লারসেন অ্যান্ড টুবরো (এলঅ্যান্ডটি) প্রায় ৪.৯ শতাংশ এবং ইন্টারগ্লোব এভিয়েশন ৪.৬৪ শতাংশ উত্থান করেছে। এছাড়া এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক, টাইটান, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক, ভারতী এয়ারটেল এবং মারুতি সুজুকির শেয়ারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি খাত তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে ছিল। টেক মহীন্দ্রার শেয়ার ২.২৯ শতাংশ কমেছে, যা সেনসেক্সে সবচেয়ে বড় পতন। ইনফোসিস, এইচসিএল টেকনোলজিস এবং টিসিএস সামান্য লাভে দিন শেষ করলেও সামগ্রিকভাবে নিফটি আইটি সূচক প্রায় স্থির ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে থাকলে ভারতীয় অর্থনীতি, শেয়ার বাজার এবং টাকার জন্য তা আরও ইতিবাচক হতে পারে। ফলে আগামী সপ্তাহেও বাজারে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তেলের দামের গতিপ্রকৃতির উপর।




