সবকিছু ঠিক থেকেও যেন গত সপ্তাহে কোথাও একটা ছন্দ কাটে বাজারের। যুদ্ধরত দুই দেশের পারস্পরিক হুংকারে আতঙ্কিত ভারত তথা সারা বিশ্বে শেয়ার বাজার তথা অর্থনীতিও। গত সপ্তাহে বাজারের টেকনিক্যাল এনালিস্টদের মতে অন্যতম প্রধান সাপোর্ট ২৪৮০০-কে ভেঙে নিচে বন্ধ হয়েছে নিফটি। এর পরের সাপোর্ট ২৪ হাজার ৫০০।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লাগাতার বিক্রির জেরে গত সপ্তাহে ডলারের দাম পৌঁছেছে ৯৬.৫০ টাকার উপরে। অবশ্য কেবল ভারতের শেয়ার বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি নয় তার সঙ্গে যোগ হয়েছে অপরিশোধিত তেলের আকাশ ছোঁয়া দাম, যা গত সপ্তাহে ১০০ ডলার ছুঁয়ে এসে সপ্তাহের শেষে ব্যারেল পিছু বন্ধ হয়েছে ৯৮.৩৮ ডলারে। প্রত্যেক তেল আমদানিকারী দেশের কাছে এখন একটাই চিন্তা তাদের ফিস্কাল ডেফিসিট ম্যানেজমেন্ট। এই ফিসকাল ডেফিসিট বাড়ার আশঙ্কায় ভারত তথা সমগ্র তেল আমদানিকারী দেশের কারেন্সির দাম কমতে শুরু করেছে ডলারের অপেক্ষায়। এর সঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুংকারে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ভালো পারফর্ম্যান্স দেবার পরে বেশ কিছুটা নিচে ফার্মা সেক্টরের সূচক। ট্রাম্পের থ্রেট ফার্মা সেক্টরের কাছে অশনি সংকেত।
দু-বছরের মধ্যে জেনেরিক ড্রাগ কোম্পানিগুলি আমেরিকায় উৎপাদন কেন্দ্র না তৈরি করতে পারলে ১০০% শুল্ক চাপতে পারে সেই সমস্ত কোম্পানিগুলির প্রোডাক্টের উপর— বলে হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যার জেরে ফার্মাসেক্টার এখন দিশাহারা। দেশের বেশ কিছু বড় বড় ব্যাঙ্ক ও এই কোয়ার্টারে তাদের আর্থিক ফলাফলে বিনিয়োগকারীদের আশা পূরণ করতে পারেনি, ফলে পতন হয়েছে ব্যাঙ্কের সূচকেও। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির ধারা অব্যাহত আমাদের বাজারে, গত সপ্তাহে প্রায় তারা প্রায় ৭ হাজার ১০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। অবশ্য তাদের সমানে টক্কর দিয়েছে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা৷ তারা প্রায় ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকার শেয়ার গত সপ্তাহে কিনেছেন আমাদের বাজার থেকে।
আমেরিকার ‘জব ডেটা’ ভালো এলেও দেশটার প্রধান তিন সূচক গত সপ্তাহে ছিল বেশ কিছুটা নিচে। এই তিন প্রধান সূচকের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলির শেয়ারের পতনের জেরে NASDAQ-এর পতন হয়েছে প্রায় দুই শতাংশ। জাপান এবং হংকংয়ের সূচক গত সপ্তাহে বন্ধ হয়েছে যথাক্রমে ০.৭৩ শতাংশ এবং ১.৬৩ শতাংশ উপরে। ইউরোপের বিভিন্ন সূচকগুলির পারফরম্যান্স খুব ভালো না হলেও ছিলো চলনশীল। ইউনাইটেড কিংডমের (ইউকে) মুদ্রাস্ফীতি ১৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়ার ফলে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে দেশটির ভোক্তারা।
INDIAVIX গত সপ্তাহে প্রায় ৮% বেড়ে বন্ধ হয়েছে ১৪-র আশেপাশে, অর্থাৎ আগামী সপ্তাহে বাজার থাকবে টালমাটাল অবস্থায়। এত কিছুর মাঝে অটো সেক্টর এবং এফএমসিজি সেক্টরের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মত। বেশ খারাপ অবস্থায় রিয়েলিটি এবং ফিনান্সিয়াল সেক্টরের শেয়ারগুলি। মিড ক্যাপ এবং স্মল ক্যাপ সেক্টরের অবস্থাও বেশ খারাপ, বিশেষত এই দুই সেক্টরের পতনের জেরে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস নেমেছে বেশ কিছুটা নিচে।
গোল্ড এবং সিলভার এই দুই মূল্যবান ধাতুর দাম সপ্তাহের শেষে একটু উপরে বন্ধ হয়েছে সাপ্তাহিক বন্ধের ভিত্তিতে। ১০ গ্রাম সোনার দাম গত সপ্তাহে বন্ধ হয়েছে প্রায় ১৪৩০০০ টাকার আশেপাশে, এবং এক কিলো রুপোর দাম গত সপ্তাহে ছিল প্রায় ২২২০০০ টাকার কাছে। গোল্ড ভার্সেস সিলভার অনুপাত অনুসারে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন আগামী দিনে রুপো দিতে পারে বিনিয়োগকারীকে ভালো রিটার্নের আশ্বাস।




