• facebook
  • twitter
Monday, 25 May, 2026

বিদেশি মুদ্রা সঞ্চয়ে জোর সীতারমণের

বিদেশি মুদ্রা সঞ্চয়ের উপর জোর দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি মুদ্রা সঞ্চয়ের উপর জোর দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। সোমবার মুম্বইয়ে Small Industries Development Bank of India বা সিডবির প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিদেশি মুদ্রা ‘যতটা সম্ভব সাশ্রয়’ করার যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুধু কূটনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা নয়, এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানির দাম, বাণিজ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উপর। তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে পারে, পণ্য পরিবহণে বিলম্ব হতে পারে এবং জাহাজ পরিবহণের খরচও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে শিল্পক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

Advertisement

নির্মলা সীতারামন জানান, এই ধরনের পরিস্থিতি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই ক্ষেত্রের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। কার্যকর মূলধনের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে এবং রফতানি ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের মূল লক্ষ্য হল আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ধাক্কা থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া এবং একই সঙ্গে এমএসএমই ও রফতানিকারীদের পাশে দাঁড়ানো।

Advertisement

তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয় এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, সে দিকেই নজর দিচ্ছে কেন্দ্র। সেই কারণেই অপ্রয়োজনীয় বিদেশি মুদ্রা খরচ কমানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী এদিন ভারতের অর্থনীতির শক্ত ভিতের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি বলেন, কিছু মহল অযথা ভয় তৈরি করে অর্থনীতি নিয়ে নেতিবাচক প্রচার চালাচ্ছে, যা দেশের মানুষের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে।

সীতারামনের কথায়, “বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এই সময় হতাশাবাদী বা নেতিবাচক প্রচার দেশের পক্ষে ক্ষতিকর।” তিনি মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক সাফল্য এবং উন্নয়নকে খাটো করে দেখানোর প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত।

এদিন কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক কমানোর প্রসঙ্গও তোলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, পেট্রোল ও ডিজেলের উপর লিটার প্রতি ১০ টাকা করে আবগারি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্বে এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি প্রভাব পড়তে পারে।

তবে সাধারণ মানুষকে মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতার প্রভাব যাতে সরাসরি সাধারণ মানুষের উপর না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্র এই পদক্ষেপ করেছে বলে দাবি অর্থমন্ত্রীর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হলে জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই এখন থেকেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্র সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।

Advertisement