আজ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি স্থগিত করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর ঠিক তারপরেই হুড়মুড় করে বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। আর সেই ধাক্কা এসে পৌঁছলো ভারতের দালাল স্ট্রিটেও। ভারতে শুরু হয়ে গিয়েছে রক্তস্নান। মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ভারতের শেয়ার বাজার থেকে মুছে গেল ৯ লক্ষ কোটি টাকা।
আজ বাজার বন্ধের সময়ে দেখা গিয়েছে সেনসেক্স রয়েছে ৭৬.৫০৩.৬০ পয়েন্টে। যা গতকালের তুলনায় ১৬৭৭.১২ পয়েন্ট কম। সেই সঙ্গে নিফটি ৫১৬.৬৫ পয়েন্ট নেমে নিফটি এসে দাঁড়িয়েছে ২৩,৮৮২.০৫ পয়েন্টে। আজ অনেকটা নেমে গিয়েছে ব্যাঙ্ক নিফটি। ১৪৫৮ পয়েন্ট পতন হয়েছে ব্যাঙ্ক নিফটির। বাজারে এভাবে বিয়ার কার্টেলের দাপট বাড়ায় রীতিমত নাজেহাল বুল কার্টেল। আজ যুদ্ধবিরতি তুলে নেওয়ার পর থেকে এক ধাক্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম ৫.৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মুহুর্তে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম দাঁড়িয়ে গিয়েছে ৭৮.৩৫ মার্কিন ডলারে।
সেই সঙ্গে আজও সামগ্রিক ভাবে এশিয়ান মার্কেট রয়েছে অত্যন্ত নিম্নগামী। আজ দক্ষিণ কোরিয়ার COSPI এছাড়াও জাপানের NIKKEI পতন হয়েছে ২২৫ পয়েন্ট। সেই সঙ্গে ভারতের বাজারের ভিআইএক্স এর সূচক বেড়েছে ৩০ শতাংশ। বাজারের অস্থিতিশীলতাকে বোঝায় এই সূচক। তাই সাধারণত সকল বিনিয়োগকারী আশা করেন যতটা সম্ভব কম থাকুক এই সূচক।
সেই সঙ্গে ধসে গিয়েছে টাকার দর। আর ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় টাকার দর ২০ পয়সা কমেছে। সেই সঙ্গে পতন হয়েছে তেল ও গ্যাসের সূচক। তবে এর মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে ফার্মাসিউটিক্যাল ও হেলথকেয়ার সেক্টর। বর্ষার আতঙ্ক ও তেলের দামের জটিলতার কারণে একটি সংখ্যক বিনিয়োগকারী এই সেক্টরকে এই মুহূর্তে পাখির চোখ করছেন।
ভারতের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন শেয়ার বাজারেও এদিন বড়সড় পতন দেখা গিয়েছে। The FTSE 100, CAC 40, and DAX— Nikkei. Kospi এ দিকে। এছাড়াও গত রাতেই ওয়াল স্ট্রিটে বড় পতনের পর Dow Jones Futures-ও প্রায় ১ শতাংশ নীচে ছিল। ফলে মার্কিন বাজারেও দুর্বল সূচনার ইঙ্গিত মিলেছে। এ সবের প্রভাবেই আজ রক্তস্নান দেখা গেল ভারতের শেয়ার বাজারে।
আজ যে শেয়ারগুলিতে সবচেয়ে বেশি পতন দেখা গিয়েছে সেগুলি হল, জিও ফিন সার্ভিস (-৫.৩৮%), ইন্ডিগো (-৫.০২%), শ্রীরাম ফিনান্স (-৪.৯১%), ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (-৪.১৫%), মারুতি সুজুকি (-৪.০৪%)। এই খারাপ অবস্থার মাঝেই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে ওএনজিসি (+১.১৫%), লোধা (+১.১৪%), বাজাজ অটো (+০.৫৪%), আদানি এনার্জি সলিউশন (+০.২৭%)-এর মতো শেয়ার। যা কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের।




