প্রায় এক বছরের অনিশ্চয়তা, আদালতের দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং অপেক্ষার অবসান। অবশেষে বুধবার দুপুরে মালদহের মহদিপুর আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরলেন বীরভূমের মুরারইয়ের পাইকর গ্রামের বাসিন্দা সুইটি বিবি। তাঁর সঙ্গে ফিরেছে দুই নাবালক সন্তান। একই দিনে দেশে ফেরেন একই গ্রামের বাসিন্দা দানেশ শেখও। সীমান্তে তাঁদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘদিন পর আপনজনদের ফিরে পেয়ে আবেগঘন হয়ে ওঠে গোটা পরিবার।
পরিবারের দাবি, গত বছরের জুন মাসে দিল্লিতে থাকার সময় সুইটি বিবি-সহ কয়েকজনকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে তাঁদের অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ। এরপর বাংলাদেশে তাঁরা জেলবন্দি ছিলেন বলেও পরিবারের দাবি। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁদের দেশে ফেরানোর দাবিতে শুরু হয় আইনি লড়াই। বিষয়টি প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টে ওঠে। পরে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয়। আদালতের নির্দেশ এবং দুই দেশের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর অবশেষে দেশে ফেরার পথ খুলে যায়।
এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে একই গ্রামের সোনালী বিবি ভারতে ফিরেছিলেন। বুধবার দেশে ফিরলেন সুইটি বিবি, তাঁর দুই নাবালক সন্তান এবং সোনালী বিবির স্বামী দানেশ শেখ। এখনও পাইকর গ্রামের আরও কয়েকজনের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া নিয়ে পরিবার আশাবাদী।
বুধবার মহদিপুর সীমান্তে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ এক বছরের দুশ্চিন্তা কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন পরিজনেরা। পরিবারের বক্তব্য, এখন তাঁদের একটাই ইচ্ছে—স্বাভাবিক জীবনে ফিরে নতুন করে সবকিছু শুরু করা।




