অতনু রায়: শুরু হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘মিনার্ভা নাট্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র’ আয়োজিত অষ্টম জাতীয় নাট্য উৎসব। চলবে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। গিরিশ মঞ্চে উৎসব উদ্বোধন করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী ও মিনার্ভা নাট্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি ব্রাত্য বসু ও মিনার্ভা নাট্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের সহ-সভাপতি অর্পিতা ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী শশী পাঁজা ও বিধায়ক তথা কলকাতার ডেপুটি-মেয়র অতীন ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব দেবাশিস মজুমদার ও মিনার্ভা নাট্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের সচিব অনুপ গায়েন।
গিরিশ মঞ্চ এবং মধুসূদন মঞ্চে এবারের উৎসব। দুই মঞ্চেই সন্ধে ৬.৩০ এর সময় একটি করে নাটক হবে। এই বছরে জমা পড়া মোট ১০১টি আবেদন পত্রের মধ্যে থেকে বিচারকরা বেছে নিয়েছেন সেরা ১৬টি নাটক।ব্রাত্য বসু বলেন, “এবারের নাট্য উৎসবের জন্য মুখ্যমন্ত্রী একবাক্যে ৮৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাটকের জন্য যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেছেন তা কোনো রাজ্যের সরকার সম্ভবত করেনি। অর্থ বরাদ্দ করার হিসেবে আমাদের রাজ্য পথিকৃৎ।”
Advertisement
অর্পিতা ঘোষ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “২০১০ থেকে মিনার্ভার নতুন যাত্রা শুরু হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারে এসেই বলেছিলেন কীভাবে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় সেটা দেখতে। এই জাতীয় নাট্য উৎসবের প্রস্তাব শুনে এককথায় রাজি হয়েছিলেন। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছিলেন বিষয়টা সবাই জানুক। উৎসবে মিনার্ভার যে ২০জন পারফর্ম করেছে তারাও একাধিক ওয়ার্কশপ এবং ইন্টারভিউ পেরিয়েই বাছাই হয়েছে। তেমনই কোনো আবেদন এলে স্ক্রিনিং কমিটিই বাছাই করেছে।”
Advertisement
থিয়েটারের সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ব্রাত্য বলেন, “থিয়েটার সংকটে আছে। কারণ, প্রযুক্তির ভয়াবহ উত্তরণ। প্রযুক্তি আমাদের স্নায়ুকে অস্থির করে দিয়েছে।” শশী পাঁজা বলেন, “শহরতলিতে বেড়ে উঠেছি। সিনেমা ছিল আর থিয়েটার চর্চা ছিল। শশী কপুর আর তাঁর স্ত্রী জেনিফার মিলে ‘পৃথ্বী থিয়েটার’ তৈরি করেছিলেন শুনেছি। সেটা কৌতুহল তৈরি করত। আর আজ গিরিশ মঞ্চে কিছু এমন ভাল কাজ হলে ব্যক্তিগত ভাবে আমার খুব গর্ব হয় স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে।” সদ্যপ্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব ভদ্রা বসুকে স্মরণ করে ব্রাত্য আরও বলেন, “স্বনামধন্য ভদ্রা বসু সার্বিকভাবে এবারের উৎসবে যুক্ত ছিলেন। ভদ্রাদি এবারে স্ক্রিনিং কমিটিতেও ছিলেন।”
২০১৫ সালে শুরু হয়ে এই উৎসব এখন সারা ভারতের নাটকের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের আকর্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে। ভিন-রাজ্যের বহু নাট্যদল এখানে সুযোগ পায় প্রতি বছর। এই বছরে সারা দেশের দশটি এবং রাজ্যের ছটি দলের নাটক মঞ্চস্থ হবে। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রের ছ’টি, অসমের দুটি, ত্রিপুরা ও মণিপুরের একটি করে নাটক রয়েছে। উদ্বোধনী নাটক ছিল ব্রাত্য বসুর লেখা এবং অর্পিতা ঘোষের নির্দেশনায় মিনার্ভা নাট্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র প্রযোজিত ‘মাৎস্যন্যায়’। নাট্যমেলার মতোই এই জাতীয় নাট্য উৎসবেরও কোনো প্রবেশমূল্য থাকছে না।
গিরিশ মঞ্চে ৫-১২ জানুয়ারি নাটকের তালিকা: চাক (হিন্দি), তাকিশি সম্বাদ (মারাঠি), ওই:য়া (অসমিয়া), নিতান্ত ব্যক্তিগত (বাংলা), ভিয়া সাভারগাঁও খুর্দ (মারাঠি), ১৯৮৪ আপলোডিং (হিন্দি), দ্য প্রিস্টেস (মণিপুরি), অভিযান (বাংলা)। মধুসূদন মঞ্চে ৫-১২ জানুয়ারি নাটকের তালিকা: কারাগার (বাংলা), সামথিং লাইক ট্রুথ (হিন্দি), রঙিন রুমাল (বাংলা), ভুতো (বাংলা), কলগিতুরা (মারাঠি), কাদম্বরী (বাংলা), আ স্টুপিড কমন ম্যান (মাল্টিলিঙ্গুয়াল) ও যাহা বলিব সত্য বলিব (বাংলা)।
Advertisement



