• facebook
  • twitter
Friday, 1 May, 2026

জীবনের ক্রাইসিস ভালো বন্ধু চেনাতে সাহায্য করে

অদিতি রায়ের পরিচালনায় হইচইতে আসছে সিরিজ ‘কুহেলি’। তাতে পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করেছে প্রিয়াঙ্কা সরকার। বাস্তব জীবন ও রিল লাইফ নিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে খোলামেলা আড্ডায় কথা বললেন দেবযানী লাহা ঘোষ।

নিজস্ব গ্রাফিক্স চিত্র

অদিতি রায়ের পরিচালনায় ওয়েবসিরিজ ‘কুহেলি’। নামটার সঙ্গে আমরা ছোটবেলা থেকেই পরিচিত। এই কুহেলিকে নিয়ে কী বলবে?

প্রিয়াঙ্কা: ‘কুহেলি এবং কুহেলির কুয়াশা’ এই গল্পে একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমি ওই সিকিমের ছোট্ট জায়গাটার কথা বলছি। কমেডি থ্রিলার। আমি সেখানে ডিএসপি অগ্নি বাসুর চরিত্রে অভিনয় করছি। মারদাঙ্গা প্রচুর কিছু আছে ডিএসপি অগ্নি বাসুর এবং তার হেড কনস্টেবল যে চরিত্রটা করেছে দুর্বার। দুরন্ত ক্রাইসিসের মধ্যে থাকলেও হিউমার রয়েছে। একটা মার্ডার হয়ে গেছে এবং সেখানে তিন বোনের তিন রকম চরিত্র। তাদের ঘিরে আরো অনেকগুলো চরিত্র রয়েছে, তার মধ্যে অনেক মজার ঘটনা ঘটছে। দর্শকরা যখন দেখবেন তাঁরা কিন্তু ভীষণ মজা পাবেন।

Advertisement

কমেডি তৈরি করা ভীষণই ডিফিকাল্ট। সেখানে কমেডি প্লাস থ্রিলার সিরিজ এটা।

Advertisement

প্রিয়াঙ্কা: অদিতিদির কাছে এটা একটা ভীষণই বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের সকলের অভিনয়েরও একটা বড় চ্যালেঞ্জ বলা যেতে পারে। তবে অদিতিদির সঙ্গে কাজ করতে আমি ভীষণ স্বচ্ছন্দ্য বোধ করি এবং আমি জানি একটা ভালো গাইডেন্স পাব।
আমাদের সকলের বেস্ট কাজটুকু উনি বার করে নেবেন। এবং শিল্পীদের এত বেশি প্যাম্পার করে কাজে লিবার্টি দেওয়া হয়, ভাবা যায় না।

দারুণ সব অভিনেতা অভিনেত্রীরা তোমার সঙ্গে কাজ করেছে এই সিরিজে। কী বলবে তাদের নিয়ে?

প্রিয়াঙ্কা: ভালো অভিনেতা অভিনেত্রীদের সঙ্গে কাজ করলে অটোমেটিক্যালি নিজের কাজটাও ভালো হয়ে যায়। ঋদ্ধিমা, অঙ্গনা, সুস্মিতা, কৌশিক সেন দুর্বার, এরা সকলেই ভীষণ ভালো অভিনেতা। আমি তো দুর্বারের ফ্যান বলতে পারো। এত ভালো লেখা, এত ভালো অভিনয় ওর, আর কমিক সেন্স। আমার মনে হয় এই চিত্রনাট্যটাকে এনরিচ করেছে দুর্বার। আমাদের সকলের সঙ্গেও সেটা শেয়ার করেছে এবং অদিতি আমাদের সেইভাবে স্পেস দিয়েছে, যাতে আমরা নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারি।

সহজ দেখেছে এই কাজটা কিছু বলেছে তোমাকে?

প্রিয়াঙ্কা: আমার সব কাজ নিয়ে ওর সঙ্গে গল্প করি। ও আমার কাজ নিয়ে ওয়াকিবহাল। ও আমার কিছু কাজ দেখে। সব যে দেখে, তা নয়। কিছু বুঝতে পারে কিছু বুঝতে পারে না। আমার মনে হয়, কাজ বোঝাটা একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের ওপর নির্ভর করে, সবসময় বয়সের উপর নির্ভর করে না। এমন যদি কোনও কাজ থাকে যেটা আমার মনে হয় যে, গার্জেন হিসেবে আমি সেটা এক্সপোজ করতে চাই না। সেটা যদি ওর দেখার হয় দেখবে পরবর্তীকালে। তবে এই সিরিজটা কিন্তু পরিবারের সকলকে নিয়ে দেখার সিরিজ।

জীবনের একটা অদ্ভুত সময়ের মধ্যে দিয়ে তুমি যাচ্ছ। ক্রাইসিস কতটা নিজেকে চেনায় আর মানুষকে চেনায়।

প্রিয়াঙ্কা: আমি এখনো জানি না আমি কী পারি, আর কতটা পারি। নিজেকে নানা ক্রাইসিসের মধ্যে দিয়ে পার করার সময় অদ্ভুতভাবেই নিজের সাপোর্ট সিস্টেমটা আলাদাভাবে গ্রো করেছে। ঠিক ঠিক মানুষগুলো আমার পাশে চলে এসেছে। একটা সময় কেউ ছিল না তারপরে হয়তো একজন দু’জন এমন অনেক ভালো মানুষ আমার পাশে এসেছে এবং আমি এ ব্যাপারে ভীষণই ফরচুনেট। বেশ কিছু ভালো বন্ধু যারা আমার ব্যাপারে খুবই কেয়ারিং। বন্ধুরা নিজেরাই বুঝে নিয়েছে কখন আমাকে স্পেস দিতে হবে। এভাবেই যারা থেকে গিয়েছে তাদের সঙ্গে খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছে। যাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রয়ে গিয়েছে, এটা বুঝেছি তারা হয়তো আমাকে আমার থেকেও বেশি ভালো বোঝেন, তাই হয়তো সেই বন্ধুত্বটা থেকে গিয়েছে।

এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বলতে পারি তোমার একটি অসাধারণ কাজ ছবি ‘নধরের ভেলা’। এই ছবির প্রচার এবং কাজ নিয়ে কী বলবে?

প্রিয়াঙ্কা: প্রদীপ্তদা এবং ঋত্বিকদার কাছে আমি ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ শ্যামা চরিত্রটা আমাকে দেওয়ার জন্য। এই চরিত্রটার জন্য আমি এত মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি এবং তাঁরা ছবিটা যেভাবে দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছেন এটাও অভিনব। এই ছবিটা দেখানোর জন্য আমরা এত শুভেচ্ছা পাচ্ছি ভাবতে পারবে না। যেখানেই শো হচ্ছে, তা হাউসফুল হয়ে যাচ্ছে।

তোমার কাছে ‘কুহেলি’র ইউএসপি কী?

প্রিয়াঙ্কা: পুলিশের চরিত্র আমি আগেও করেছি কিন্তু পরিচালক অদিতির ডিটেলিং আমাকে এক অন্য পুলিশ অফিসারে পরিণত করেছে এবং অবশ্যই কমেডি থ্রিলার হিসেবে এটা খুব যত্ন করে তৈরি হয়েছে। নানান ক্রাইসিসের মধ্যেও অদ্ভুত কিছু হিউমর উঠে আসবে, যা আর পাঁচটা সিরিজের থেকে এটাকে আলাদা করবে। দর্শক সিরিজটা দেখে ভাববেন এবং অপেক্ষায় থাকবেন আগামী সিরিজের।

দর্শকদের কী বলবে?

প্রিয়াঙ্কা: শুধু দর্শক নন, তোমাদের সকলকেই জানাবো অনেক ধন্যবাদ। আমাদের এই অদ্ভুত সময় আমার বন্ধু, কাছের মানুষ, সোশ্যাল মিডিয়া মারফত দর্শকরা যেভাবে আমাদের পাশে থেকেছেন আমি এবং আমার পরিবার সকলের কাছে ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ।

Advertisement