• facebook
  • twitter
Wednesday, 1 April, 2026

মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন পদ ছাড়তে চান লীনা গঙ্গোপাধ্যায়

রাহুলের মৃত্যুর তিন দিন পর বিবৃতি প্রযোজনা সংস্থার

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর তিনদিনের মাথায় বিবৃতি দিল  প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স। এই বিবৃতিতে বিশেষভাবে উঠে এসেছে জনপ্রিয় লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ, যিনি ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’-র সঙ্গে যুক্ত। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রয়োজনে তিনি আর মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন থাকতে চান না। তাঁর বর্তমান পদ থেকেও সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত।

বুধবার সংস্থার তরফে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তাতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই সংস্থা লীনার একার নয়। আরও এক জন অংশীদার রয়েছেন, তিনি শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন শৈবাল শহরে ছিলেন না। খবর পেয়ে বিমান ধরে মুম্বই থেকে ফিরে আসেন। দেখা করতে যান রাহুলের পরিবারের সঙ্গে। প্রযোজনা সংস্থার দাবি, সেই সময় রাহুলের পরিবারের সদস্যদের সেই অবস্থা না থাকায় তাঁকে কথা না বলেই ফিরে যেতে হয়। যদিও সেখানে উপস্থিত কেউই তাঁকে দেখেননি বলে দাবি করা হচ্ছে।

Advertisement

২০১০ সাল থেকে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁর মূল ভূমিকা ছিল লেখক ও ‘ক্রিয়েটিভ হেড’ হিসেবে। ২০১১ সালে বোর্ডে যোগ দিলেও তিনি কখনও প্রোমোটার বা অপারেশনাল এক্সিকিউটিভের ভূমিকায় যুক্ত ছিলেন না। যদিও পরবর্তীতে তাঁকে সামান্য ইকুইটি ও কো-প্রোডিউসারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সংস্থার দাবি—তাঁর অবদান বরাবরই সৃজনশীল ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ।

Advertisement

অন্যদিকে মঙ্গলবার আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা একটি বৈঠক করেন। যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে সেই বৈঠক হয়। সেখানেই সম্ভবত সিদ্ধান্ত হয়, প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর করতে চলেছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। পাশাপাশি প্রযোজনা সংস্থাকে আইনি নোটিস পাঠাতে চলেছে আর্টিস্ট ফোরাম। আগামী কয়েকদিনে সঠিক তথ্যসহ জবাব না মিললে কর্ম বিরতির ডাকও দিতে পারে অভিনেতারা, সেই রকম খবর মিলছে।

উল্লেখ্য, রবিবার তালসারিতে শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনায় মৃত্য হয় অভিনেতা রাহুলের। তারপর থেকেই তাঁর মৃত্যু ঘিরে নানা ধোঁয়াশা তৈরি হয়। শুটিং সেটের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনার প্রকৃতি এবং চিকিৎসায় দেরি—সবকিছু নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। এই পরিস্থিতিতে প্রযোজনা সংস্থার এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ১০ থেকে ১২ জনকে জেরা করেছে পুলিশ। তালিকায় রয়েছেন শুটিং ইউনিটের সদস্যরা, ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা, এমনকি অভিনেতা যে হোটেলে উঠেছিলেন, সেখানকার কর্মীরাও। আগামী দিনে এই ঘটনার তদন্ত কোন দিকে এগোয় এখন সেটাই দেখার।

 

 

Advertisement