• facebook
  • twitter
Wednesday, 1 April, 2026

শিল্পপতি পবন রুইয়াকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ

৬০০ কোটি টাকার সাইবার প্রতারণা মামলা

শিল্পপতি পবন রুইয়া।

বৃহৎ অঙ্কের সাইবার প্রতারণা মামলায় ধৃত শিল্পপতি পবন রুইয়া। তাঁকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল বিধাননগর মহকুমা আদালত। অভিযোগ, দেশজুড়ে অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। সেই টাকা তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে।

মঙ্গলবার নিউটাউনের একটি হোটেলের সামনে থেকে পবন রুইয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার তাঁকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। আগামী ৮ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।

Advertisement

পবনের আইনজীবী বিবেক শর্মা দাবি করেছেন, গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পুলিশ অতিসক্রিয়তা দেখিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘এখন অধিকাংশ লেনদেনই অনলাইনে হয়। অনেক সময়ই বোঝা যায় না, কে কী উদ্দেশ্যে টাকা পাঠাচ্ছে। কোনও সংস্থার অ্যাকাউন্টে যদি কয়েক লক্ষ টাকা ঢুকে পড়ে, সব ক্ষেত্রে তার উৎস যাচাই করা সম্ভব হয় না।’

Advertisement

অন্যদিকে, সরকার পক্ষের আইনজীবী রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এটি একটি বৃহৎ আর্থিক তছরুপের মামলা, যেখানে কয়েকশো কোটি টাকার প্রতারণার প্রমাণ মিলেছে। তিনি বলেন, ‘এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দেশজুড়ে বিস্তৃত একটি চক্রের অংশ’।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে বিধাননগরের ইকো পার্ক থানায় এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। প্রথমে তদন্তকারীরা প্রায় ৩১৫ কোটি টাকার লেনদেনের হদিশ পান। পরে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাইবার অপরাধ দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের করে। তদন্তের পর প্রতারণার অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। তদন্ত চলাকালীন পবন রুইয়ার অফিস ও বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়।

তদন্তকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করছিলেন। এর মধ্যে কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন পবন রুইয়া। আদালত শর্তসাপেক্ষে সেই আবেদন মঞ্জুর করলেও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে নিম্ন আদালতে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই ঘটনায় আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা ও সাইবার অপরাধ দমনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও বহু ব্যক্তি যুক্ত থাকতে পারেন। ফলে আগামী দিনে এই মামলায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে।

Advertisement