‘প্রত্যাবর্তন’ ছবির এই চরিত্রটা কোথায় নাড়া দিল?
অপরাজিতা: এই চরিত্রটা একজন প্রতিষ্ঠিত নারীর, যিনি মেয়েদের জন্য কাজ করেন, সমাজে সম্মানিত, নিজের পরিচিতি আছে। কিন্তু এত কিছু থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের জীবনে ভীষণ অসহায়। এই দ্বন্দ্বটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে। বাইরে শক্তিশালী, ভেতরে ভাঙা— এই বাস্তবতা খুবই গভীর।
এখানে আসল অসহায়ত্বটা কোথায়?
অপরাজিতা: আমাদের সমাজে কোনও সমস্যা হলে প্রথমেই দায়টা মেয়েদের উপর চাপানো হয়। সন্তান খারাপ পথে গেলে বলা হয়, মায়ের দোষ, মা দেখেনি। এই মানসিকতাই আসল অসহায়ত্ব। এটা শুধু চরিত্রের নয়, আমাদের চারপাশের বাস্তব ছবি।
Advertisement
অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী বলছেন, এটা অন্য মানের ছবি। কারণ কী?
অপরাজিতা: ‘প্রত্যাবর্তন’ একটি সম্পূর্ণ সেরিব্রাল ছবি। এখানে গল্প যেমন ভাবায়, তেমনই আবেগও আছে। পাশাপাশি অঞ্জন দত্ত, রূপা গাঙ্গুলি, শিলাজিৎ-এর মতো শক্তিশালী অভিনেতারা রয়েছেন। ফলে অভিনয় ও বিষয়— দুই দিক থেকেই ছবিটি আলাদা মাত্রা পেয়েছে।
Advertisement
দর্শক কেন এই ছবির সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন?
অপরাজিতা: কারণ এই ছবিটা সবার জীবনের গল্প বলে। আপনি, আমি, পরিবারের কেউ, এমনকি নতুন প্রজন্ম— যেই দেখুক না কেন মনে হবে, এ তো আমারই গল্প।
পরিচালক সমর্পণ সেনগুপ্ত সম্পর্কে তোমার মত কী?
অপরাজিতা: এটা ওঁর প্রথম ছবি। কিন্তু প্রথম ছবিতেই তিনি আবেগ, সম্পর্ক আর সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। অভিনেতাদের মাধ্যমেও সেই অনুভূতি স্ক্রিনে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন।
ছবিতে ডিজিটাল এডুকেশনের বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পেয়েছে?
অপরাজিতা: আমাদের দেশে যেমন সঠিক সেক্স এডুকেশন প্রয়োজন, তেমনই ডিজিটাল এডুকেশনও খুব জরুরি। নতুন প্রজন্ম ডিজিটাল জগতে বড় হচ্ছে। সঠিক শিক্ষা না পেলে ভবিষ্যতে সমস্যার মুখে পড়তে হবে। এই ছবিতে সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে।
বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানের সৌরভ গাঙ্গুলীর বায়োপিকে তুমি সৌরভের মায়ের চরিত্রে। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। শুটিং করতে মুম্বাই যাচ্ছ কী বলবে?
অপরাজিতা: প্রথমে ওঁরা কলকাতায় এসে স্ক্রিপ্ট শোনান। তারপর আমাকে অডিশন দিতে বলেন। আমি তো আগে কখনও অডিশন দিইনি, তাই একটু ইতস্তত করেছিলাম। পরে ওঁদের অনুরোধে অডিশন দিই এবং পরদিনই সম্মতি পাই। সবশেষে স্ক্রিপ্ট এতটাই ভালো লেগেছিল যে ছবিটি করতে রাজি হয়ে যাই। এই ছবিটির অংশ হতে পেরে আমি সত্যি ভীষণ খুশি।
দর্শকদের উদ্দেশ্যে কী বলতে চাইবে?
অপরাজিতা: বর্তমান সময়ে এই ছবিটি দেখা খুব জরুরি। সেন্সর বোর্ড ছবিটিকে ১৩ প্লাস সার্টিফিকেট দিয়েছে, যাতে স্কুলপড়ুয়ারাও দেখতে পারে। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম এই ছবিটি দেখুক এবং গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো বুঝুক। এছাড়াও, ছবিটি রিলিজ হওয়ার পর দর্শকদের মনে এটি কতটা সাড়া ফেলবে, তা নিয়ে আমরা সবাই যথেষ্ট এক্সাইটেড তাই সকলকে হলে গিয়ে ‘প্রত্যাবর্তন’ দেখার অনুরোধ রইল।
Advertisement



