৪ মে বাংলায় ঘটে গিয়েছে পালাবদল। আর তারপরে গোটা বাংলার খোলনলচে বদলানোর কাজ শুরু হয়েছে। আর সেই বদলের আঁচ এসে পড়েছে টলিপাড়াতেও। জানানো হয়েছে আর নেই ফেডারেশনের জুজু। এবার থেকে কাজ করবেন সকল গুণী শিল্পীরা। বাদ যাবেন না বিরোধী মতাদর্শের শিল্পীরাও। বর্তমানে টলিপাড়াতে একাধিক কাজ শুরু হয়েছে। বিনিয়োগ আসছে বাইরে থেকেও। কিন্তু সেখানেও দেখা যাচ্ছে সমস্যা।
আসলে ৪ তারিখের পর থেকে টলিপাড়ায় স্বরূপ বিশ্বাসের সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে। শাসকদলের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ থেকে শুরু করে বিধায়িকা পাপিয়া অধিকারী, সকলেই জানিয়েছেন এবার সকলেই কাজ করবেন স্বাধীন ভাবে। থাকবে না কোনো ভয়। উঠে গিয়েছে ফেডারেশন। কিন্তু তারপরেই দেখা গিয়েছে পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যা। এতদিন পর্যন্ত নিয়ম ছিল কাজ শুরুর ৭ দিনের মধ্যেই সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে। যাতে টাকা পয়সা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা না থাকে। কিন্তু এবারে একাধিক সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ফেডারেশন উঠে যাওয়ার পরে ফের টেকনিশিয়ানদের গুরুত্ব কমতে শুরু করেছে। প্রযোজকেরা নিজেদের পছন্দমত টেকনিশিয়ান নিয়ে কাজ শুরু করে দিচ্ছেন। এমনকি যাদের ফেডারেশনের কার্ড রয়েছে তাদেরও বাদ দেওয়া হচ্ছে কাজ থেকে। সেই সঙ্গে জমতে শুরু করেছে বকেয়ার পাহাড়। যা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন টলিপাড়ার একাধিক টেকনিশিয়ান। বকেয়া জমতে থাকা ও কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ার কারণে এই সকল টেকনিশিয়ানদের মধ্যে বাড়ছে নতুন সরকারকে নিয়ে অসন্তোষ।
যদিও এর মধ্যে নতুন করে টলিপাড়ায় টেকনিশিয়ানদের নতুন ফর্ম বিলির কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অভিযোগ উঠেছিল যে এই ফর্মের কোন গুরুত্ব নেই। তবে বিপুল সংখ্যক টেকনিশিয়ান এই ফর্মের প্রতি আগ্রহী ছিল তা বোঝা গিয়েছিল ফর্ম তোলার ভিড় দেখে।
এমতাবস্থায় টলিপাড়ায় ২৬টি ফেডারেশনের সকল সদস্যদের পরিকল্পনা ছিল আগামীকাল হাজরা থেকে নন্দন প্রাঙ্গন পর্যন্ত মিছিল করার। আর আনুমানিক ৮ হাজারের কাছাকাছি শিল্পী এই মিছিলে যোগ দিত। কিন্তু আচমকা তথ্য সংস্কৃতি দফতরের আজ বৈঠক হয়েছিল ফেডারেশন সদস্যদের সঙ্গে নন্দনেই। আর সেখানেই ঠিক হয় সোমবার ২৬টি ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সকলে। আশা করছেন হয়তো নতুন কোনো দিশা উঠে আসবে। সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।




