মুম্বই, ২৩ জানুয়ারি— প্রেক্ষাগৃহে ঢুকলেই যেন ধীরে ধীরে ফিরে আসছে সেই পুরনো ‘বর্ডার’-এর আবেগ। আর পর্দায় সানি দেওল-এর প্রথম আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হচ্ছে শিস, হাততালি আর খাঁটি দেশি সিনেমার উন্মাদনা। বহু প্রতীক্ষার পর মুক্তি পাওয়া বর্ডার ২ পুরোপুরি হয়তো প্রথম ‘বর্ডার’-এর স্মৃতিকে ছাপিয়ে যেতে পারে না, কিন্তু ভারতীয় সেনার প্রতি শ্রদ্ধা, গর্ব আর দেশপ্রেমের আবেগে ছবিটি নিজের জায়গা শক্তভাবেই তৈরি করে নিচ্ছে।
দেশপ্রেমের মাটিতে দাঁড়িয়ে তৈরি এই ছবি একই সময়রেখায় হলেও একেবারে নতুন গল্প বলছে। শুরুতেই ১৯৭১ সালের যুদ্ধের রিক্যাপ দর্শককে মুহূর্তে আবেগী করে তোলে। সেখান থেকেই গল্প এগোয় নতুন পথে। কিন্তু সাহস, আত্মত্যাগ, কর্তব্যবোধ আর দেশপ্রেমের মূল সুর অটুট থাকে। গল্পের গঠন সহজ, পরিষ্কার এবং সাবলীল। জটিল টুইস্ট নয়, সরাসরি যুদ্ধ, আবেগ আর জাতীয় গর্বের মিশ্রণেই এগিয়েছে কাহিনি।
Advertisement
প্রায় ৩ ঘণ্টা ১৯ মিনিট দৈর্ঘ্যের ছবিতে চরিত্র নির্মাণ ও আবেগ গড়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেওয়া হয়েছে। প্রথমার্ধ কিছুটা ধীর গতির হলেও ব্যাকস্টোরি, সম্পর্কের বন্ধন আর আবেগী মুহূর্তগুলি তৈরি করে দেয় পরের ঝড়ের মঞ্চ। দ্বিতীয়ার্ধেই ছবির আসল বিস্ফোরণ ঘটে। একটার পর একটা যুদ্ধদৃশ্য, অ্যাকশন, আবেগের চূড়ান্ত মুহূর্ত আর ভারী ভিএফএক্স। সম্পাদনা মসৃণ, ভিএফএক্স চোখে লাগে না, বরং দৃশ্যের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশে গিয়েছে। যুদ্ধদৃশ্যগুলি অকারণে দীর্ঘ নয়, বরং ধারালো, সুপরিকল্পিত এবং প্রভাবশালী।
Advertisement
সঙ্গীত ছবির অন্যতম বড় শক্তি। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর দেশপ্রেমের আবেগকে আরও উঁচুতে তোলে, আর আবেগী দৃশ্যগুলিতে সুর হয়ে ওঠে অনুভূতির ভাষা। প্রেক্ষাগৃহে বসে এই ছবিতে গান ও সাউন্ডের অভিজ্ঞতা আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
অভিনয়ে নিঃসন্দেহে কেন্দ্রবিন্দু সানি দেওল। তাঁর এন্ট্রি সিনেই যেন টিকিটের দাম উসুল। সংলাপ, দেহভঙ্গি, কণ্ঠের গর্জনে বারবার ফিরে আসে পুরনো ‘বর্ডার’-এর স্মৃতি। ভক্তদের কাছে এটি নিখাদ নস্টালজিয়া। বরুণ ধাওয়ান ট্রেলার ঘিরে ট্রোলিংয়ের পরেও ছবিতে দৃঢ় অভিনয়ে নিজের জায়গা ধরে রাখেন। যদিও দিলজিৎ দোসাঞ্জ ও আহান শেট্টি কিছুটা আড়ালে চলে যান অতিরিক্ত ভিএফএক্স ও বড় অ্যাকশন সেট-পিসের ভিড়ে।
নারী চরিত্রদের মধ্যে মোনা সিং সবচেয়ে বেশি ছাপ ফেলেছেন সানি দেওলের স্ত্রীর ভূমিকায়। ছোট চরিত্র হলেও আবেগে গভীরতা এনেছেন তিনি। সোনম বাজওয়া ও মেধা রানা সীমিত পরিসরে নিজেদের কাজ সঠিকভাবেই করেছেন।
‘বর্ডার ২’ প্রথম ‘বর্ডার’-কে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে না। বরং নস্টালজিয়া, দেশপ্রেম আর গণআবেদনকে পুঁজি করেই নিজের পরিচয় গড়ে তোলে। প্রথমার্ধের ধীর গতি ও কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দ্বিতীয়ার্ধের আবেগী বিস্ফোরণ, দেশপ্রেমের জোয়ার আর সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধার অনুভূতি ছবিটিকে দেখার মতো করে তোলে।
যাঁরা যুদ্ধের ছবি ভালোবাসেন, দেশপ্রেমী সিনেমার আবেগ পছন্দ করেন, কিংবা বড় পর্দায় সানি দেওলের গর্জন দেখতে চান, তাঁদের জন্য ‘বর্ডার ২’ একেবারেই হতাশ করবে না। নস্টালজিয়ার শক্তিতেই ছবিটি বক্স অফিসে বড় সাফল্যের দিকে এগোতে পারে বলেই মনে করছেন সিনে মহল।
Advertisement



