• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 22 September, 2026

‘বাংলা ছবির বৃদ্ধি চাইলে হলের সংখ্যা বাড়াতে হবে’, পুজোর আগে বার্তা বনির

পুজোর আবহে মুক্তি পেতে চলেছে নতুন বাংলা ছবি ‘ কেয়ার অফ জার্নি’। ছবির প্রচারে ব্যস্ত অভিনেতা বনি সেনগুপ্ত, দর্শনা বণিক এবং

‘বাংলা ছবির বৃদ্ধি চাইলে হলের সংখ্যা বাড়াতে হবে’, পুজোর আগে বার্তা বনির

পুজোর আবহে মুক্তি পেতে চলেছে নতুন বাংলা ছবি ‘ কেয়ার অফ জার্নি’। ছবির প্রচারে ব্যস্ত অভিনেতা বনি সেনগুপ্ত, দর্শনা বণিক এবং খুদে অভিনেতা ত্রিশাণজিৎ। ছবির গল্পে যেমন রয়েছে গ্রামের মানুষের জীবন, তেমনই রয়েছে কলকাতা শহরের গল্প। শহর ও গ্রামের দুই ভিন্ন জগতকে এক সুতোয় বেঁধে তৈরি হয়েছে এই ছবি।

ছবির প্রসঙ্গে বনি বলেন, “আমার চরিত্রটা একটি স্বপ্ন নিয়ে কলকাতায় আসে। সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় সে এক সময় প্রতারক হয়ে যায়। এর মধ্যেই একটি বাচ্চার সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়। সেই বাচ্চাটি কী ভাবে তার জীবনে জড়িয়ে পড়ে, রুমেলার সঙ্গে তার কী ধরনের সম্পর্ক তৈরি হয়, সম্পর্কটি বন্ধুত্বের বাইরে অন্য কোনও দিকে যায় কি না, কিংবা যে বাবা শহরে এসেছে তাঁকে খুঁজতে, শেষ পর্যন্ত বাবাকে খুঁজে পায় কি না—সবটাই ছবির গল্পের মধ্যে রয়েছে।”

ছবির পরিচালক প্রতীক সেনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশংসা শোনা যায় বনির গলায়। তাঁর কথায়, পরিচালকের গল্প বলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট স্পষ্টতা ছিল। শুটিংয়ের সময়ও পরিচালককে অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ এবং ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে দেখেছেন তাঁরা। বনি জানান, ছবির অধিকাংশ শুটিং হয়েছে বাস্তব লোকেশনে। কোনও কৃত্রিম সেট তৈরি করা হয়নি। ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে আলো, শিশু শিল্পীদের সামলানো—সবকিছুই পরিচালক খুব দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন।

দর্শনাও জানান, তাঁর চরিত্রের যাত্রাপথ ছবির গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শহর ও গ্রামের মানুষের জীবনকে পাশাপাশি রেখে কী ভাবে গল্প এগিয়েছে, সেটিই ছবির অন্যতম আকর্ষণ বলে মনে করছেন তাঁরা।

অন্য দিকে, ছবির খুদে অভিনেতা ত্রিশাণজিৎ জানায়, ‘জার্নি’ তার কাছে অত্যন্ত আবেগের একটি গল্প। তার চরিত্রটি গ্রামের একটি বাচ্চা। বাবা তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর বাবাকে খুঁজতে সে কলকাতায় আসে। কলকাতায় এসে রুমেলার সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত তার বাবা খুঁজে পাওয়া যায় কি না, কিংবা রুমেলার সঙ্গে তার সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তা জানতে দর্শকদের হলে গিয়ে ছবি দেখতে হবে বলেই জানায় সে।

পুজোর কেনাকাটা নিয়েও কথা বলেন বনি। নিজের কেনাকাটার পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে তিনি খুব একটা দক্ষ নন বলে জানান অভিনেতা। তাঁর কথায়, সাধারণত তাঁর স্ত্রীই পুজোর কেনাকাটার পরিকল্পনা করেন এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের কথা জানিয়ে দেন। ইতিমধ্যেই পুজোর কেনাকাটা শুরু হয়ে গিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলা ছবির প্রদর্শনের ক্ষেত্র নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন বনি। তাঁর মতে, বাংলা সিনেমার প্রকৃত বৃদ্ধি চাইলে রাজ্যে আরও বেশি সংখ্যক প্রেক্ষাগৃহ প্রয়োজন। তিনি বলেন, “নম্বর অফ হল বাড়ানো দরকার। না হলে বাংলা সিনেমার গ্রোথ হবে না, প্রযোজকদেরও গ্রোথ হবে না। আমাদের আগে যতগুলি সিনেমা হল ছিল, এখন তার সঙ্গে আকাশ-পাতাল তফাত।”

এই বিষয়ে সরকারের তরফে সহযোগিতার আবেদনও জানান অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য, বাংলা সিনেমার জন্য আরও বেশি প্রেক্ষাগৃহ তৈরি হলে নতুন ছবি তৈরির সুযোগ বাড়বে। বর্তমানে অনেক ভাল ছবি পর্যাপ্ত প্রেক্ষাগৃহ না পাওয়ার কারণে দর্শকের কাছে পৌঁছতে পারে না বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি।

শুধু কলকাতাকেন্দ্রিক দর্শক নয়, শহরের বাইরে আরও বেশি জায়গায় বাংলা ছবি পৌঁছনোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন বনি। তাঁর কথায়, কলকাতার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন জায়গার প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের বাংলা ছবি দেখার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

পুজোর আবহে ‘কেয়ার অফ জার্নি’ মুক্তি পাওয়ায় দর্শকদের হলে গিয়ে ছবিটি দেখার আবেদনও করেন বনি। ছবিটি দর্শকদের ভাল লাগবে বলেই আশাবাদী ছবির কলাকুশলীরা।