• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 15 June, 2026

তৃণমূলের ভাঙনে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে এনসিপিআই কি জানালেন আইনজীবী তথা প্রাক্তন সভাপতি?

এনসিপিআইয়ের অতীত সম্পর্কে জানতে দলের প্রাক্তন সভাপতি তথা কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবি শিউলি সাহা কুণ্ডু  জানান, ২০২২ সালে হাওড়ার সাঁকরাইল এলাকায় দলটির সাংগঠনিক যাত্রা শুরু হয়

রাজ্য রাজনীতিতে আচমকাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এনসিপিআই (ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া)। তৃণমূল কংগ্রেসের  ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের একাংশের এই দলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা।

জানা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ, যাঁরা গত কয়েকদিন ধরে দলের মধ্যে পৃথক অবস্থান নিচ্ছিলেন, তাঁরা নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এনসিপিআইকে বেছে নিয়েছেন। সূত্রের খবর, তাঁরা লোকসভার স্পিকারের কাছেও পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জানিয়েছেন।

এনসিপিআইয়ের অতীত সম্পর্কে জানতে দলের প্রাক্তন সভাপতি তথা কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবি শিউলি সাহা কুণ্ডু  জানান, ২০২২ সালে হাওড়ার সাঁকরাইল এলাকায় দলটির সাংগঠনিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ত্রিপুরার পঞ্চায়েত ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দলটি নিজেদের উপস্থিতি জানানোর চেষ্টা করে।

সেই সময় দলের কয়েকজন সদস্য নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিলেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি। শিউলি সাহা কুণ্ডু বলেন, ‘দল বড় হচ্ছে শুনে ভালো লাগছে। আমরা যখন শুরু করেছিলাম তখন এত বড় পরিসরের কথা ভাবিনি। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে চাই না।’ তিনি জানান, বর্তমানে তাঁর স্বামী উত্তীয় কুণ্ডু এখনও দলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

দলের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এনসিপিআই ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি নিবন্ধিত অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। দলটির নিবন্ধিত কার্যালয় হাওড়ার বাণীপুর এলাকায়। সভাপতি উত্তীয় কুণ্ডু এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে শিউলি কুণ্ডুর নাম কমিশনের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আইনজীবী তথা প্রাক্তন এনসিপিআইয়ের সভাপতি আরও জানিয়েছেন, প্রথম নির্বাচনী পরীক্ষায় ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি। সাতটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও একাধিক মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সীমিত পরিসরে লড়াই করে। নির্বাচনী ফলাফলে দলটি কোনও আসন জিততে না পারলেও নিজেদের রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তোলার চেষ্টা চালায়।

দলের একাধিক প্রাক্তন কর্মী ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের দাবি, ত্রিপুরা নির্বাচনের পর আর্থিক ও সাংগঠনিক সমস্যার কারণে দলীয় কার্যকলাপ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়ে। যদিও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই দলই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রস্থলে উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সংসদে সংখ্যার সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এনসিপিআইকে ঘিরে আগ্রহ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকশো ভোট পাওয়া একটি অপেক্ষাকৃত অচেনা রাজনৈতিক দল থেকে জাতীয় রাজনীতির আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হওয়ার এই ঘটনাকে অনেকেই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর মোড় বলে মনে করছেন।

আগামী দিনে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের এই নতুন রাজনৈতিক অবস্থান কতটা প্রভাব ফেলবে এবং এনসিপিআই বাস্তবে কতটা সাংগঠনিক বিস্তার ঘটাতে সক্ষম হবে, এখন সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।