• facebook
  • twitter
Thursday, 23 April, 2026

পরিবর্তনের হাওয়া নয়, মৃত ভোটার বাদ পড়তেই ভোটদানের হার বৃদ্ধি

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোটে ৯১ শতাংশ ভোটদানের পিছনে আসল কারণ কী? তালিকা সংশোধন, মৃত ভোটার বাদ পড়া ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যার বিশ্লেষণ।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ভোট পড়েছে প্রায় ৯১ শতাংশের বেশি। এই বিপুল সংখ্যক ভোটের হার পূর্বের বহু নির্বাচনী রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় পরিবারের অনেকের নাম বাদ পড়তেই প্রতিবাদ জানিয়ে ভোটাররা বেশি করে ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছেন।

অন্যদিকে,বিরোধী দল বিজেপি-র একাংশ নেতা-কর্মী এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই ভোটের হার বৃদ্ধি পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেওয়ার ফলেই হয়েছে বলেই ইঙ্গিত করেছেন। দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি এমনকি বিধানসভার প্রার্থী দিলীপ ঘোষও পরিবর্তনের হাওয়ায় ভোটের হার এতটা বেড়েছে বলে দাবি করেছেন।

Advertisement

কিন্তু বাস্তবে কি তাই? এর পিছনে আসল রহস্যটা কি? এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একটু বিশ্লেষণ করলেই দেখা যাবে, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৬৪ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। যার সিংহভাগ ভোটারই ছিল মৃত ভোটার। যেখানে ২০২৫-এর খসড়া তালিকায় প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ভোটার ছিল, সেখানে এই বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়া মানে মোট ভোটারের প্রায় ৮.৩ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন রাজ্যে বাদ পড়া মোট মৃত ভোটারের সংখ্যা উল্লেখ না করলেও রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এবার এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যে প্রায় ৭ শতাংশের বেশি মৃত ভোটার বাদ পড়েছে। এমনিতেই অতীতে রাজ্যের বহু নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনেক সময় ৮০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। আর তালিকায় এতদিন এত বেশি মৃত ভোটার থাকায় ভোট গ্রহণের হার তুলনায় কম দেখা গিয়েছে। কারণ এইসব মৃত ভোটাররা তো আর পরলোক থেকে এসে ভোটগ্রহণে অংশগ্রহণ করেনি। বরং এইসব ভোটাররা তালিকায় একটা ফাঁকা জায়গা করে নিয়ে ভোটদানের হার কমিয়েছে।

Advertisement

বিগত নির্বাচনগুলিতে কত সংখ্যক মানুষ ভোট দিয়েছেন, আর বর্তমান নির্বাচনে কত সংখ্যক মানুষ ভোট দিচ্ছেন তার মোট সংখ্যা মিলিয়ে দেখলেই চিত্রটা স্পষ্ট হবে। দেখা যাবে, বিগত নির্বাচনে রাজ্যে মোট ভোটদানে অংশগ্রহণকারী ভোটার এবং বর্তমান নির্বাচনে ভোটদানে মোট অংশগ্রহণকারী ভোটারের সংখ্যার খুব একটা হেরফের হচ্ছে না।

তার উপর রয়েছে বিচারাধীন ভোটারদের হয়রানি। অনেকে এই বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ভোট দেওয়ার প্রবণতা অস্বীকার করা যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় পরিবারের সদস্যদের নাম বাদ পড়ার কারণে অনেকে আবার ভোট না দিলে ভবিষ্যতে তালিকা থেকে নাম হারানোর ভয়ও পেয়েছেন। কারণ একটা সংখ্যক ভোটার তালিকায় নাম তুলে রেখেছেন একুটুই যথেষ্ট বলে মনে করতেন। তাঁরা রাজনৈতিক কচকচানি, বা দলাদলি থেকে সবসময় দূরে থাকা পছন্দ করেন। সেজন্য এতদিন তাঁরা ভোটপ্রদানে অংশগ্রহণ করতেন না। কিন্তু সম্প্রতি এইসব ভোটারদের একটি অংশ  বেশি করে আগ্রহী হয়ে ভোট দিয়েছেন।

আর পরিবর্তনমুখী হাওয়া, নাকি সরকারের পক্ষে রায়দান, সেই চিত্র স্পষ্ট হবে ৪ মে ভোট গণনার পর।

Advertisement