• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 8 June, 2026

হামলা পাল্টা হামলার পর সংযমের বার্তা ইরানের, কাটছে না যুদ্ধের আশঙ্কা

এই পরিস্থিতিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তিনি প্রকাশ্যে দুই দেশকেই সংযম দেখানোর আহ্বান জানান

পশ্চিম এশিয়ায় ফের ঘনিয়ে এসেছে যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত গোটা অঞ্চলকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। তবে এই উত্তেজনার মধ্যেই সাময়িক স্বস্তির খবর এসেছে তেহরান থেকে। ইরান জানিয়েছে, আপাতত তারা তাদের সামরিক অভিযান স্থগিত রাখছে। যদিও একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছে, লেবাননে ইজরায়েলের হামলা চলতে থাকলে আরও কঠোর জবাব দিতে তারা পিছপা হবে না।

রবিবার লেবাননের রাজধানী বেইরুটে ইজরায়েলের হামলার পরই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ইরানের অভিযোগ, হিজবুল্লাকে লক্ষ্য করে চালানো ওই অভিযানের প্রতিবাদেই তারা ইজরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইজরায়েলের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। তবুও দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয় এবং বহু এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে। এরপরই সোমবার সকালে ইজরায়েল পাল্টা পদক্ষেপ করে। ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে বিমান হামলার কথা জানায় ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। তেহরান-সহ একাধিক শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। যদিও উভয় পক্ষই ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও প্রকাশ করেনি।

এই পরিস্থিতিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তিনি প্রকাশ্যে দুই দেশকেই সংযম দেখানোর আহ্বান জানান। সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ও ইজরায়েল উভয়েই সংঘর্ষ থামানোর বিষয়ে আগ্রহী। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে এবং নতুন যুদ্ধ সেই সমঝোতার সম্ভাবনাকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ট্রাম্প ফোনে প্রায় আধঘণ্টা কথা বলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে। সেখানে তিনি নতুন করে উত্তেজনা না বাড়ানোর অনুরোধ জানান। তবে সেই বার্তার পরও ইরানে ইজরায়েলের হামলা সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে এলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। কারণ ইরান সামরিক অভিযান স্থগিত রাখলেও তা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়। যে কোনও নতুন হামলা আবারও বৃহত্তর সংঘর্ষের পথ খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সক্রিয় বিভিন্ন গোষ্ঠী জড়িয়ে পড়লে সঙ্কট আরও গভীর হতে পারে। ফলে আপাতত সংঘাত স্তিমিত হলেও পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হবে, নাকি আবারও যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়বে আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহেই বোঝা সম্ভব হবে।