রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণে নজিরবিহীন সাড়া মিলেছে ভোটারদের কাছ থেকে। রাজ্যের প্রথম দফার ভোটে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটদানের হার পৌঁছেছে ৮৯.৯৩ শতাংশে, যা ইতিমধ্যেই আগের একাধিক নির্বাচনের রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে শমসেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে—৯৫.৩৪ শতাংশ। খুব কাছাকাছি রয়েছে ভগবানগোলা, যেখানে ভোট পড়েছে ৯৫.৩১ শতাংশ। নন্দীগ্রামে ভোটদানের হার ৯০.০৩ শতাংশ এবং বহরমপুরে ৮৯.৬০ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করছে যে ভোটারদের অংশগ্রহণ এ বার কতটা উচ্চমাত্রায় পৌঁছেছে।
Advertisement
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ভোট শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগেই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ভোটদানের হারকে অনেকটাই ছাড়িয়ে গিয়েছে এবারের এই পর্ব। ২০২১ সালে এই ১৫২টি আসনে ভোট পড়েছিল ৮৩.২ শতাংশ, আর ২০২৪ সালে তা ছিল ৭৯.৮ শতাংশ। সেই তুলনায় এ বার বিকেল ৫টার মধ্যেই তা প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছে যাওয়া একটি বড় রেকর্ড হিসেবেই ধরা হচ্ছে।
Advertisement
এখন নজর দ্বিতীয় দফার ভোটের দিকে। যদি একই ধারা বজায় থাকে, তবে সর্বভারতীয় স্তরেও নতুন নজির গড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গ। এখনও পর্যন্ত দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড ছিল পুদুচেরি-র দখলে, যেখানে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮৯.৯৩ শতাংশ। তার আগে আসাম-এ ৮৫.৩৮ শতাংশ ভোট পড়ে উল্লেখযোগ্য রেকর্ড তৈরি হয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোট ইতিমধ্যেই সেই রেকর্ড স্পর্শ করেছে। তবে চূড়ান্ত গড় ভোটদানের হার কত দাঁড়াবে এবং তা নতুন সর্বভারতীয় নজির গড়বে কি না, তা স্পষ্ট হবে পরবর্তী দফার ভোট শেষ হওয়ার পরেই। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে এর আগে সর্বোচ্চ ভোটদানের হার ছিল ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে—৮৪.৩৩ শতাংশ। এবারের প্রবণতা সেই রেকর্ড ভাঙার জোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
Advertisement



