দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুনরায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানাল নির্বাচন কমিশন। দিনভর কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই ভোটগ্রহণ চলে। কমিশনের দাবি, বৃহস্পতিবার গোটা বিধানসভা কেন্দ্রজুড়ে উৎসবের আবহে মানুষ ভোট দিয়েছেন। প্রশাসনের তরফে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আগাম পূর্ণ প্রস্তুতিও রাখা হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ফলতা বিধানসভায় মোট ২৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি কেন্দ্রকে স্পর্শকাতর বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেই সব বুথে বাড়তি নিরাপত্তা এবং নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়।
Advertisement
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটারদের পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়াতেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছিল। এদিন ১০০ ভাগ ভোটারের পরিচয়পত্রেই ছবি ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ১২ জন মাইক্রো অবজারভার মোতায়েন করা হয়েছিল। কন্ট্রোল রুমও তাঁদের সরাসরি নজরদারির আওতায় ছিল।
Advertisement
ভোট চলাকালীন কিছু ক্ষেত্রে ভিভি প্যাট যন্ত্র পরিবর্তন করতে হয়েছে বলেও কমিশন জানিয়েছে। মোট ১২টি ভিভি প্যাট বদল করা হয়েছে। তবে এর ফলে ভোট প্রক্রিয়ায় বড় কোনও প্রভাব পড়েনি বলেই দাবি প্রশাসনের।
এবারের পুনর্ভোটে ভোটদানের হারও উল্লেখযোগ্য। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ফলতায় মোট ভোট পড়েছে ৮৬.১১ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে ভোটদানের হার ছিল ৮৭.২০ শতাংশ। আর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফলতায় ভোট পড়েছিল ৮৪.০৭ শতাংশ। সেই হিসেবে এবারের পুনরায় ভোটগ্রহণে ভোটারদের উৎসাহ যথেষ্ট ছিল বলেই মনে করছে প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর নির্বাচন কমিশন গোটা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেয়। বিজেপির অভিযোগ ছিল, একাধিক বুথে ইভিএমে তাদের প্রার্থীর প্রতীকের সামনে সাদা টেপ লাগানো হয়েছিল। পরে বিশেষ পর্যবেক্ষকের রিপোর্টের ভিত্তিতে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এত বিতর্ক এবং উত্তেজনার মধ্যেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন হওয়াকে কমিশন বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে। এখন নজর আগামী ২৪ মে গণনার দিকে।
Advertisement



