বর্তমান এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণের মুখে পড়ল নির্বাচন কমিশন। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতেই হবে। আদালতের এই নির্দেশের পরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন শুরু হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণকে সামনে রেখেই বারাসতের জনসভা থেকে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানায় তৃণমূল কংগ্রেস।
Advertisement
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সংক্রান্ত একটি ই-মেল পাঠানো হয়েছে, যেখানে আগামী ২৭ জানুয়ারি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠকের সময় চাওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও ওই প্রতিনিধি দলে তৃণমূলের আরও প্রায় ১০ জন নেতা থাকবেন। তাঁদের অভিযোগ, বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ ভোটারদের অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। সামান্য তথ্যগত ত্রুটির অজুহাতে বহু মানুষকে বারবার শুনানিতে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
Advertisement
এই প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেন। সেই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ দেখিয়ে যাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, তাঁদের নামের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতেই হবে। শুধু তাই নয়, প্রশাসনিক কার্যালয়ে সেই তালিকা টাঙানোর পাশাপাশি অনলাইনেও তা প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত আরও জানায়, শুনানিতে ভোটাররা যে সব নথি জমা দেবেন, তার রসিদ দিতে হবে এবং ঠিক কোন কারণে সংশ্লিষ্ট ভোটারের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, সেটিও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি থাকার দাবি করা হয়েছিল। পরে সেই সংখ্যা সংশোধন করে ৯৪ লক্ষ বলে উল্লেখ করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই সংশোধিত তালিকাই প্রকাশ করতে হবে।
এই নির্দেশের পর বারাসতের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তাঁর দাবি, এসআইআর-এর আড়ালে প্রায় এক কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ছক কষা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এসআইআর ঘিরে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থানের ফলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে রাজ্যের ভোটারদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
Advertisement



