রাজ্যের স্কুলপড়ুয়াদের জন্য বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। এবার সরকারি স্কুলে বসেই অ্যানিমেশন, ভিএফএক্স, কমিক্স কিংবা গেমিংয়ের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি শিখতে পারবে পড়ুয়ারা। পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুল পড়ুয়াদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ পেশার উপযোগী করে তুলতে ‘ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব’ তৈরির উদ্যোগ নিল রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দপ্তর। আগামী পাঁচ বছর ধরে প্রত্যেক বছর এক লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি এবং এভিজিসি-এক্সআর সেক্টরের নানা বিষয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য এই বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই, প্রত্যেক বছর প্রায় ১০ হাজার পড়ুয়াকে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া।
কদিন আগেই স্কুলশিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলার স্কুলগুলির জন্য এই জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা এই বিশেষ প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে। এই কাজ শুরুর আগে স্কুলগুলির পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে চাইছে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দপ্তর। স্কুলগুলিতে কম্পিউটার ল্যাবের কেমন পরিকাঠামো আছে এবং সেখানে কেমন কর্মী রয়েছেন সেটা জানতে একটি গুগল ফর্ম পাঠানো হয়েছে। সব সরকারি স্কুলকে আগামী ২২ জুলাই তারিখের মধ্যে এই ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে স্কুল স্তর থেকেই পড়ুয়াদের সৃজনশীলতার বিকাশ অ্যানিমেশন-ভিএফএক্স শেখানো সম্ভব হবে। পড়ুয়ারা ভবিষ্যতের ডিজিটাল অর্থনীতির উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে।
স্কুলশিক্ষা কমিশনার এই বিষয়ে নানা জেলার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের চিঠি পাঠিয়েছেন। রাজ্য সরকারের এই যুগোপযোগী উদ্যোগের জেরে স্কুল স্তর থেকেই পড়ুয়ারা প্রযুক্তিনির্ভর সৃজনশীল শিক্ষায় উৎসাহিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিরাট কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়িত করতে বড় অঙ্কের আর্থিক বরাদ্দও করা হয়েছে। রাজ্যের উদ্যোগে ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০০টি কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব স্থাপন এবং ‘ওয়েবেল অ্যানিমেশন অ্যাকাডেমি’র পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে।
তাছাড়া ডিজিটাল দুনিয়ায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে কেন্দ্রীয় সরকারও ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে সারা দেশের ১৫ হাজার স্কুল এবং ৫০০টি কলেজে ল্যাব তৈরির জন্য ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি রাজ্যের এই উদ্যোগ সফল হলে স্কুলস্তর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের পড়ুয়ারা আগামী দিনের ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজেদের শক্ত ভিতের জায়গা করে নিতে পারবে বলে মনে করছেন অনেকেই।




