রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট দেখে খুশি সর্বস্তরের মানুষজন। সোমবার রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য যেমন মহার্ঘভাতা ঘোষণা করা হলো তেমন অন্নপূর্ণা যোজনা এবং প্রবীণ নাগরিক ও বিধবাদের ভাতা বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য ২০ শতাংশ ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনা ও প্রবীণ নাগরিকদের ভাতা নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন তিনি। অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
এদিকে এই ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশ কিছু ক্ষেত্রে নানা উদ্যোগের কথা শুনিয়েছেন তিনি। অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে বলেও অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘মহিলাদের বিনামূল্যে বাস পরিষেবার জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে ৫৫০ কোটি টাকা। শীঘ্রই পিঙ্ক কার্ড চালু করা হবে। বয়স্ক, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। নারী ক্ষমতায়ন ও আর্থিক ক্ষেত্রে তাঁদের বেশি করে অংশগ্রহণের জন্য অন্নপূর্ণা যোজনা শুরু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সের যোগ্য মহিলাদের জন্য মাসে তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া সুনিশ্চিত করা হচ্ছে। এই নির্দিষ্ট প্রকল্পে উপভোক্তার আধার যুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ক্রেডিট হবে। এই স্কিমে আমরা ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করছি।’
অন্যদিকে সিভিক ভলান্টিয়ারদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করা হয়েছে। আশাকর্মীদের সাম্মানিক বাড়ানো হয়েছে। এই বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনে চুক্তিভিত্তিক কন্ডাক্টরদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করে মাসে ১৬ হাজার টাকা করা হবে। সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ এবং গ্রিন পুলিশদের পারিশ্রমিকও ২০০০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। হোমগার্ডদেরও পারিশ্রমিক বৃদ্ধি পাচ্ছে ২০০০ টাকা। আশাকর্মীদের কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁদের মাসিক সাম্মানিক ৫০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এতদিন প্রবীণ নাগরিক, বিধবা মহিলারা মাসে ১ হাজার টাকা করে পেনশন বা আর্থিক সাহায্য পেতেন। এবার থেকে ১৫০০ টাকা করে পাবেন।’
তাছাড়া প্রতি বিধানসভায় একটি করে মিনি ইন্ডোর স্টেডিয়াম, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া পিছু মিড মিলের বরাদ্দ ১০ টাকা বাড়ানো-সহ নানা কথা ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্য বাজেটে। এই বিষয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর ঘোষণা, ‘প্রতি বিধানসভায় একটি করে মিনি ইন্ডোর স্টেডিয়াম তৈরির ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়া পিছু মিড মিলের বরাদ্দ বাড়ল ১০ টাকা। রাঁধুনিদের হাজার টাকা করে ভাতা বাড়ানো হচ্ছে। অত্যাধুনিক হাসপাতাল গড়ে তুলতে বেসরকারি সংস্থাকে আহ্বান করা হচ্ছে। তাদের সরকারি হাসপাতালের রোগীদের জন্যে বিনামূল্যে বা ভর্তুকি অর্থে ৫০ শতাংশ বেড সংরক্ষিত রাখতে হবে। মুম্বই-ভেলোরে চিকিৎসার জন্য গেলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রোগীর আত্মীয়দের কম খরচে থাকার ব্যবস্থা। পিপিপি মডেলে থাকার বন্দোবস্ত করতে হবে।’




