বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর উত্তেজনার আবহে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার বার্তা দিলেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সকালে নন্দীগ্রাম থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, কোনও অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, ‘ওরা অনেক অত্যাচার করেছে। কিন্তু কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। ওরা যা করেছে, আপনারা করবেন না। শান্তি বজায় রাখতে হবে।’ তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, জয়ের পর প্রতিশোধের রাজনীতির বদলে সংযম বজায় রাখতেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
Advertisement
বিজয়মিছিল নিয়েও সতর্কবার্তা দেন বিজেপি বিধায়ক। কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘৯ তারিখের পর পুলিশের অনুমতি নিয়ে শান্তিতে করবেন। এখন দু’-তিনটে দিন বিজয়মিছিল করবেন না।’ এই নির্দেশের মাধ্যমে সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়ানোর চেষ্টা করেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
Advertisement
এই প্রসঙ্গেই নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, ‘দুটো মন্ত্রে আমি ২০১১-র পরিবর্তনে ছিলাম। আর এ বার আসল পরিবর্তনে থাকলাম। দুটো মন্ত্র হল ধৈর্য আর সহ্য। অনেক সহ্য করেছি।’ তাঁর এই মন্তব্যে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট।
একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন তিনি। শুভেন্দু জানান, আগের সরকারের আমলের প্রতিটি মামলা আইন মেনে ফের খোলা হবে। তিনি বলেন, ‘আগামীর বিজেপি সরকার ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী প্রতিটি মামলা খুলবে। আমরা ব্যবস্থা নেব।’ এতে আইনি পথে পুরনো অভিযোগগুলির পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত মিলেছে।
শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, উন্নয়ন নিয়েও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, নন্দীগ্রামে নতুন ইংরেজি মাধ্যম স্কুল, আইটিআই কলেজ গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে বছরে দু’বার ধান চাষের উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরির কথাও বলেন। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘যারা গুন্ডা, তাদের দায়িত্ব আমার উপর ছেড়ে দিন।’
সবশেষে ভবিষ্যৎ লক্ষ্য স্পষ্ট করে শুভেন্দু বলেন, ‘বিজেপিকে এক বার মানুষ এনেছে। আমরা এমন ভাল কাজ করব, ১০০ বছর বিজেপি থাকবে। আমরা আমাদের সঙ্কল্পপত্র পূরণ করব।’ তাঁর এই বক্তব্যে দীর্ঘমেয়াদি শাসনের লক্ষ্যের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে।
Advertisement



