পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনাকে রুখতে কড়া বার্তা দিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, রাজ্যের কোথাও ভাঙচুর, অশান্তি বা হিংসার ঘটনা ঘটলে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। এই বিষয়ে কোনোরকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেলকে সর্বদা সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলাশাসক ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকেও সর্বদা নজরদারি চালানোর কথা বলা হয়েছে।
Advertisement
উল্লেখ্য, সোমবার ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির খবর সামনে আসতে শুরু করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একাধিক এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। কোথাও তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে, আবার কোথাও দলটির কর্মীদের উপর হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে। মঙ্গলবারও রাজ্যের নানা জায়গায় অশান্তি অব্যাহত থাকে। এমনকি রাজ্যের দুই প্রান্তে খুনের অভিযোগও ওঠে—একজন তৃণমূল কর্মী এবং অন্যজন বিজেপির কর্মী।
Advertisement
ভাঙড়, বারুইপুর, হাওড়া ও নানুর-সহ একাধিক এলাকায় ‘সন্ত্রাস’-এর অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি এই হামলার সঙ্গে জড়িত। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ মানতে নারাজ এবং তারা জানিয়েছে, কোনও হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে বিজেপি যুক্ত নয়।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক রং না দেখে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার কাছে আবেদন করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ভোট-পরবর্তী শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনের ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
Advertisement



