২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রথম সারিতে উঠে আসছে একাধিক নাম। তবে সব হিসাব-নিকাশের মাঝে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
রাজনৈতিক অন্দরের আলোচনা অনুযায়ী, সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন রাসবিহারীর জয়ী প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত, রূপা গাঙ্গুলি, অগ্নিমিত্রা পাল, শুভেন্দু অধিকারী। আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও আর এক প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তবে এই সব জল্পনার মাঝেই এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন উত্তর ২৪ পরগনার বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা সুকুমার দে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রথম পছন্দ।’
Advertisement
সুকুমার দে-র এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং সংগঠনের সঙ্গে গভীর যোগ থাকার কারণে তাঁর বক্তব্যকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেকেই। তিনি যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা অনেকটাই বিজেপির অন্দরমহলের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেই মনে করা হচ্ছে।
Advertisement
শুভেন্দু অধিকারীর নাম এগিয়ে থাকার পেছনে একাধিক কারণও উঠে আসছে। তিনি শুধু জনপ্রিয় জননেতা নন, প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। মমতা সরকারের আমলে দু’দফায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর ফলে প্রশাসনিক কাজকর্মে তাঁর দখল সুদৃঢ়। রাজ্যের আমলাতন্ত্র পরিচালনা থেকে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ— সব ক্ষেত্রেই তাঁর সক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করছেন দলের একাংশ।
তার পাশাপাশি ২০২১ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দুর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলকে সংগঠিত করা, কর্মীদের মনোবল বাড়ানো এবং জনসংযোগ বৃদ্ধি— এই সব ক্ষেত্রেই তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই বেড়েছে।
তবে শুধু শুভেন্দু অধিকারীই নন, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নামও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে। দলের একাংশের মতে, তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভারসাম্য রক্ষার কৌশলও স্পষ্ট হবে।
এই প্রেক্ষাপটে সুকুমার দে-র ভূমিকা ও মন্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিজেপির জন্মলগ্ন থেকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এই প্রবীণ নেতা দীর্ঘদিন উত্তর ২৪ পরগনায় দলের সংগঠন গড়ে তুলেছেন। ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি অখণ্ড জেলার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং পরবর্তীতে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। পরে তিনি বিভিন্ন সময়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বেও ছিলেন। দলের বহু শীর্ষ নেতা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন একজন অভিজ্ঞ নেতার মুখ থেকে বেরিয়ে আসা এই মন্তব্যকে সহজে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বরং তা অনেকটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভাবনায় শুভেন্দু অধিকারীই এখন সবচেয়ে এগিয়ে। সব মিলিয়ে বলা যায়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ্যে না এলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের মুখ হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নামই শীর্ষে রয়েছে। এখন দেখার, আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এই জল্পনা কতটা সত্যি প্রমাণিত হয়।
Advertisement



