• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 27 July, 2026

মমতার জন্য ভবানীপুর ছেড়েছিলেন, সুব্রতর ‘উত্তরাধিকার’ রক্ষায় মনোনয়ন পেশ শোভনদেবের

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর থেকে জয়ী হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য স্বেচ্ছায় আসন ছেড়ে দেন তিনি

মমতার জন্য ভবানীপুর ছেড়েছিলেন, সুব্রতর ‘উত্তরাধিকার’ রক্ষায় মনোনয়ন পেশ শোভনদেবের

দলনেত্রীর জন্য জেতা আসন ছেড়ে দেওয়ার নজির গড়ে রাজ্য রাজনীতিতে ‘ক্লিন ইমেজ’-এর পরিচয় দিয়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় । এবার তাঁর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ- দক্ষিণ কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রয়াত বর্ষীয়ান নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার রক্ষা করা।
সোমবার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। দিনের শুরুতেই প্রথা মেনে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে আশীর্বাদ নেন প্রবীণ এই রাজনীতিক। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে রওনা দেন। তাঁর সঙ্গে সর্বক্ষণ ছিলেন ছেলে সায়নদেব চট্টোপাধ্যায়।
দুপুর গড়াতেই হাজরা মোড় থেকে শুরু হয় বিশাল মিছিল। হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে দক্ষিণ কলকাতার রাস্তায় যেন উৎসবের আবহ তৈরি হয়। দলীয় পতাকা, স্লোগান আর উচ্ছ্বাসে ভরপুর সেই মিছিল আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত পৌঁছয়। সেখানে নির্বাচন কমিশনের সমস্ত নিয়ম মেনে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন জমা দেন শোভনদেব।
শোভনদেবের এই প্রার্থীপদ নিছক রাজনৈতিক লড়াই নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর থেকে জয়ী হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য স্বেচ্ছায় আসন ছেড়ে দেন তিনি। পরে খড়দহ উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হন।
অন্যদিকে, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে বালিগঞ্জ কেন্দ্রটি শূন্য হয়ে পড়ে। উপনির্বাচনে সেখানে প্রার্থী করা হয়েছিল বাবুল সুপ্রিয়-কে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই ফল তৃণমূলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বালিগঞ্জে অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত মুখ হিসেবে শোভনদেবকেই বেছে নিয়েছে দল।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি— এই দুইকে হাতিয়ার করেই তিনি ভোটযুদ্ধে নামছেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর শোভনদেব বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে বালিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আশা করছি, তাঁদের বিপুল সমর্থন পাব।’ভবানীপুর ও খড়দহের পর বালিগঞ্জেও কি জয়ের ধারা বজায় রেখে প্রয়াত সহযোদ্ধার প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন তিনি? সেই উত্তর মিলবে ফলপ্রকাশের দিনই।