• facebook
  • twitter
Tuesday, 28 April, 2026

বেনজির নিরাপত্তায় দ্বিতীয় দফার ভোট

দ্বিতীয় দফার ভোট প্রথম দফার মতো শান্তিপূর্ণ হয় কি না সেদিকে নজর সকলের

ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় ২ দফায় ভোটগ্রহণ চলছে। প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়।  ২৯ এপ্রিল অর্থাৎ আজ দ্বিতীয় দফার ভোটে সাতটি জেলার মোট ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে। জেলাগুলি হল- পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও নদিয়া। ভোট শুরু হবে সকাল ৭টায় এবং চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

প্রথম দফার ভোটে বিক্ষিপ্ত অশান্তি হলেও মোটের উপর ভোট প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় দফায় কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভোট রয়েছে। উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলের ভোট প্রথম দফাতেই হয়ে গিয়েছে। এই দফায় প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। দ্বিতীয় দফাতেও ভোটের হার বেশি থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এর জন্য এসআইআরের প্রভাব রয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

Advertisement

দ্বিতীয় দফার ভোটে হটস্পট কেন্দ্র ভবানীপুর। এখান থেকে চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য লড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিপরীতে রয়েছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তারফলে দ্বিতীয় দফার ভোটের ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই ভবানীপুর কেন্দ্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এটা প্রেস্টিজ ফাইট। প্রচারের সময় মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ তুলেছেন। লোডশেডিং তত্ত্বের পাশাপাশি স্লো ভোটিং হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। তৃণমূলের নেতা কর্মীদের তিনি এ নিয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন।

Advertisement

দ্বিতীয় দফার ভোট প্রথম দফার মতো শান্তিপূর্ণ হয় কি না সেদিকে নজর সকলের। দ্বিতীয় দফায় ২ হাজার ৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে থাকছে ৩৮ হাজার ২৯৭ জন রাজ্য পুলিশ। প্রতিটি বুথে কমপক্ষে হাফ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। যেখানে ৩ টি বুথ, সেখানে থাকবে এক সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী। ৫ টি বুথ হলে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে ২ সেকশন।

কলকাতায় ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, ব্যারাকপুরে ১৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, ডায়মন্ড হারবারে ১৩৪ কোম্পানি, বারাসাতে ১১২ কোম্পানি, বারুইপুরে ১৬১ কোম্পানি, হাওড়া গ্রামীণে ১৪৭ কোম্পানি, পূর্ব বর্ধমানে ২৬০ কোম্পানি, কৃষ্ণনগরে ১৫৮ কোম্পানি, বনগাঁয় ৬২ কোম্পানি, বিধাননগরে ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে।

এদিকে দ্বিতীয় দফায় ভোটের আগে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ওয়েস্টবেঙ্গল সেক্টর ও রাজ্য ফোর্স কো-অর্ডিনেটর সিআরপিএফের আইজি হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছেন। ভোটের দিন কোনও সমস্যা হলে বা অভিযোগ থাকলে হেল্পলাইন নম্বরে জানানো যাবে। দুটো মোবাইল ও একটি ল্যান্ড লাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে। মোবাইল নম্বর দু’টি হল- ৮৪২০২৭২১০১, ৮৪২০২৭২৩৪৩ ও ল্যান্ড লাইন নম্বরটি হল ০৩৩২৩৬৭১১১৭।

দ্বিতীয় দফার ভোটে নিউটাউনে কন্ট্রোলরুমও খুলেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই কন্ট্রোলরুম থেকেই নজরদারি চালানো হবে ১৪২ টি বিধানসভা কেন্দ্রে। ১৪২ টি বিধানসভা কেন্দ্রকে ৭টি ক্লাস্টারে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ক্লাস্টারের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা আলাদা মনিটরিং টেবিল। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয়বাহিনী যারা একেবারে ফিল্ডে নেমে এই নির্বাচনের নিরাপত্তা দেখবে, তাদের ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোলরুম এখানে।

অর্থাৎ, কোন জায়গার কী পরিস্থিতি রয়েছে, গ্রাউন্ড রিপোর্ট কী রয়েছে, তার সামগ্রিক তথ্য এখানে জোগান দেওয়া হবে। এখানে সমস্ত বিভাগের সিনিয়র অফিসাররা থাকবেন। এই পরিস্থিতিতে এখন রাজ্যবাসী আশাবাদী, প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফাতেও ভোট হবে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে। মহিলাদের জন্য এবার প্রায় ৪২টি পিঙ্ক বুথ খোলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ভোটারদের জন্য একাধিক নির্দেশিকা জারি করেছে, যাতে নির্বিঘ্নে ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। ভোটার কার্ড সঙ্গে না থাকলেও আপনি ভোটদান করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বিকল্প কিছু নথির উল্লেখ করেছে কমিশন। সেগুলির মধ্যে যে কোনও একটি সঙ্গে নিয়ে বুথে গেলেই আপনি ভোট দিতে পারবেন। তবে তার জন্য ভোটার তালিকায় আপনার নাম থাকতে হবে।

সাধারণত ভোট দিতে গেলে ভোটার কার্ড এবং ভোটার স্লিপ সঙ্গে রাখা দরকার। ইতিমধ্যেই কমিশনের নিযুক্ত বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপ বিতরণ করেছেন। এ বছর কোনও রাজনৈতিক দল নয়, শুধুমাত্র বিএলও-রাই এই স্লিপ বিতরণের দায়িত্বে ছিলেন। তবে ভোট দেওয়ার সময় এই স্লিপ সঙ্গে নিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

তবে কোনও কারণে ভোটার কার্ড সঙ্গে না থাকলেও চিন্তার কিছু নেই। যদি ভোটার তালিকায় নাম থাকে, তা হলে বিকল্প পরিচয়পত্র দেখিয়েও ভোট দেওয়া যাবে। নির্বাচন কমিশন এ ক্ষেত্রে ১২ ধরনের বৈধ পরিচয়পত্রের অনুমোদন দিয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, পেনশন সংক্রান্ত ছবিসহ নথি, ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের পাসবই (ছবিসহ), ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারি কর্মীদের পরিচয়পত্র, শ্রম মন্ত্রকের প্রকল্পের স্মার্ট কার্ড, স্বাস্থ্য বিমার স্মার্ট কার্ড, সাংসদ বা বিধায়কদের দেওয়া সরকারি পরিচয়পত্র এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য কেন্দ্রের দেওয়া পরিচয়পত্র।

নিরাপত্তার স্বার্থে বুথের ভিতরে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই ভোটারদের মোবাইল না নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে ভালো। তবে প্রয়োজনে বুথের বাইরে মোবাইল জমা রাখার বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য কোনও বিপজ্জনক বস্তু নিয়েও বুথে প্রবেশ করা যাবে না।

এমনকি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা প্রয়োজন মনে করলে স্মার্ট ডিভাইস—যেমন স্মার্ট ঘড়ি বা হেডফোন—নিয়েও বুথে ঢুকতে বাধা দিতে পারেন। তাই ভোট দিতে যাওয়ার সময় অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে না নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

 

 

 

 

 

 

 

 

Advertisement