• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 3 July, 2026

১১ বছর পর বকেয়া পাওয়ার পথে রায়গঞ্জ পুরসভার ঠিকাদাররা

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী নির্দেশ দিয়েছেন, মামলাকারী ঠিকাদারদের প্রাপ্য অর্থ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে

১১ বছর পর বকেয়া পাওয়ার পথে রায়গঞ্জ পুরসভার ঠিকাদাররা

File Photo

এ যেন একই যাত্রায় পৃথক ফল! একজনকে টাকা মিটিয়ে দিলেও বাকি ১৯৯ জনের টাকা মেটানো  হলো না কেন ? প্রশ্ন ছিল মামলাকারীদের। দীর্ঘ আইনি জট কাটিয়ে  ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ পুরসভার প্রায় ২০০ জন ঠিকাদারের। ২০১৫ সালের টেন্ডারের আওতায় ২৭১টি প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করলেও এতদিন বকেয়া অর্থ পাননি তাঁরা। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী নির্দেশ দিয়েছেন, মামলাকারী ঠিকাদারদের প্রাপ্য অর্থ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে।

মামলাকারীদের আইনজীবী গৌতম ঠাকুর জানান, ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী সকল আবেদনকারীই বকেয়া পাওয়ার অধিকারী। তা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন তাঁদের অর্থ আটকে রাখা হয়েছিল। ২০১৫ সালে তৎকালীন কংগ্রেস পরিচালিত রায়গঞ্জ পুরসভার বোর্ডের আমলে ২৭১টি প্রকল্পের জন্য টেন্ডার ডাকা হয়। প্রায় ৯ কোটি টাকার কাজ ২০১৬ সালের মধ্যেই শেষ করেন প্রায় ২০০ জন ঠিকাদার। কিন্তু ২০১৭ সালে পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এসডিও অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদন ছাড়াই ওই কাজগুলি করা হয়েছিল। এরপর বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় ঠিকাদারদের বিল আটকে যায়।

পরবর্তীতে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ২০১৯ সালে তারা রিপোর্ট দিয়ে জানান, যে টেন্ডার প্রক্রিয়া বা কাজে কোনও অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি। তবুও বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় ঠিকাদাররা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

তৎকালীন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজ্যকে অর্থ মেটানোর নির্দেশ দিলেও সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে যায় পুরসভা। গত বছর ডিভিশন বেঞ্চ পুরসভার আবেদন খারিজ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেয়। তবে একজন ঠিকাদার টাকা পেলেও অধিকাংশ মামলাকারীর টাকা আটকে থাকে। এরপর তাঁরা ফের আদালতের দ্বারস্থ হন।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কাজের ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতির উল্লেখ নেই এবং পুরসভাই ঠিকাদারদের কাজের শংসাপত্র দিয়েছে। ফলে সকল মামলাকারীর তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার অধিকারী। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, যাঁদের ১৫ লক্ষ, ১৪ লক্ষ, ১০ লক্ষ, ৫ লক্ষ বা অন্য যে পরিমাণ বকেয়া রয়েছে, তা সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে।