মালদহের মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকায় এসআইআর সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত বিচারকদের হেনস্থার ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। সোমবার ভোটগণনার ঠিক আগের দিন, রবিবার দুপুরে তাঁদের কালিয়াচক থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়।
তলব করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সুজাপুরের তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুল রহমান। তিনি মালদহ জেলা পরিষদের বন ও ভূমি দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। শনিবার গভীর রাতে তিনি এনআইএ-র নোটিস পান। এছাড়া কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি মহম্মদ সরিউলকেও থানায় ডাকা হয়। এছাড়া নির্বাচনী এজেন্ট,ব্লক সভাপতি, পঞ্চায়েত সমিতির পূত কর্মাধ্যক্ষ সহ ১০ জনকে তলব করা হয়। সূত্রের খবর, সকলকে দুপুর ১২টার মধ্যে থানায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সোমবার যেহেতু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ তাই কেউ হাজিরা দিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন সুজাপুরের তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন।
Advertisement
তিনি বলেন, ‘যে কোনও সংস্থা তলব করতেই পারে তাদের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ভোট গণনার একদিন আগে কেন? আমাদের নির্বাচনী এজেন্ট, কাউন্টিং এজেন্টদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কাউন্টিং-এ যেতে না দেওয়ার জন্য তলব করে আটকে রাখতে চাইছে। আমাদেরকে ধমকে চমকে কোনও লাভ নেই। আমাদের কেউ যাচ্ছে না।‘ মেল করে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সাবিনা ইয়াসমিন।
Advertisement
উল্লেখ্য, এসআইআর-এর বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা নামগুলির নিষ্পত্তির কাজ করছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। গত মাসে মোথাবাড়িতে তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং অভিযোগ, কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতরে সাত জন বিচারককে গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। তাঁদের হেনস্থারও অভিযোগ ওঠে। এসআইআর তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছিল, তাঁদের একাংশ এই বিক্ষোভে সামিল হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেয়। এর আগে রাজ্য পুলিশের সিআইডি এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে এই বিক্ষোভের অন্যতম মূল চক্রী বলে দাবি করা হয়। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের কেউ এনআইএ হেফাজতে, আবার কেউ জেল হেফাজতে রয়েছেন। গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগে এই তলব ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়।
Advertisement



