• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 19 August, 2026

ইউসিসি খসড়া থেকে এনএইচএম কর্মীদের ৫ হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধি, মন্ত্রীসভার বৈঠকের খুঁটিনাটি জানালেন অগ্নিমিত্রা পাল

অগ্নিমিত্রা পাল জানান, এদিনের মন্ত্রীসভার বৈঠকে রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের স্বচ্ছ বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কারকে সামনে রেখে একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে

ইউসিসি খসড়া থেকে এনএইচএম কর্মীদের ৫ হাজার টাকা বেতন বৃদ্ধি, মন্ত্রীসভার বৈঠকের খুঁটিনাটি জানালেন অগ্নিমিত্রা পাল

Photo: Representational Image

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার নবান্নে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রীসভার বৈঠকে প্রশাসন, আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিচারব্যবস্থা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভূমি-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে মন্ত্রীরা, মুখ্যসচিব, বিভিন্ন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব ও প্রধান সচিবরা। পরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মন্ত্রীসভার সিদ্ধান্তগুলির বিস্তারিত তুলে ধরেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা।

অগ্নিমিত্রা পাল জানান, এদিনের মন্ত্রীসভার বৈঠকে রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের স্বচ্ছ বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কারকে সামনে রেখে একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে অন্যতম হল ‘দ্য ইউনিফর্ম সিভিল কোড, ওয়েস্ট বেঙ্গল, ২০২৬’-এর খসড়া পরীক্ষা করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের অনুমোদন।

তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই-এর নেতৃত্বে এই কমিটি আগামী চার সপ্তাহ বিভিন্ন সমাজের প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত গ্রহণ করবে। এরপর আগস্ট মাসে রাজ্য সরকারের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য, আগামী বিধানসভা অধিবেশনেই ইউসিসি বিল পেশ করা।

মন্ত্রী জানান, খসড়া আইনে ধর্ম নির্বিশেষে বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অভিন্ন আইন, বিবাহের বাধ্যতামূলক নথিভুক্তিকরণ, ছেলে-মেয়ের সম্পত্তিতে সমান অধিকার, লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিবন্ধন এবং তফসিলি উপজাতিদের সাংবিধানিক ছাড়ের মতো একাধিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আবাসন ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। অগ্নিমিত্রা পাল জানান, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে যাঁরা প্রথম কিস্তির অর্থ পেয়েছেন, তাঁদের দ্রুত দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-র আওতায় নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে প্রকৃত গৃহহীন পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কোনও অযোগ্য ব্যক্তি যাতে সরকারি সুবিধা না পান, তার জন্য কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া চালু হবে।

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ১ আগস্ট, ২০২৬ থেকে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (এনএইচএম)-এর অধীনে কর্মরত সকল কর্মীর মাসিক পারিশ্রমিক ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবিকে গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিচারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, পুরুলিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতা সিটি সেশন কোর্টে মোট ৯টি নতুন ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি এই আদালতগুলির জন্য ৩৬টি নতুন পদ সৃষ্টি ও নিয়োগেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে বিএসএফ এবং সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর জন্য আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদা জেলায় ৫৪.২৪৮৫ একর সরকারি জমি স্থায়ীভাবে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও খতিয়ান ও জমির তথ্যের ডিজিটাল কপি সংগ্রহে আবেদন ফি ও অথেনটিকেশন ফি সম্পূর্ণ মকুব, মালদায় জওহর নবোদয় বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দ, কোচবিহার ও বাঁকুড়ায় নতুন ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশন নির্মাণ, পশ্চিম মেদিনীপুরে ইএসআইসি ডিসপেনসারি গঠন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধির আধুনিকীকরণ এবং কেন্দ্রের ‘বিকশিত ভারত—গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ প্রকল্প বাস্তবায়নের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলেছে।

সাংবাদিক বৈঠকে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য সরকার স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনমুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সাধারণ মানুষের সুবিধা, দ্রুত পরিষেবা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেই মন্ত্রিসভা এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি গ্রহণ করেছে। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তগুলি আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক দক্ষতা, সামাজিক সুরক্ষা এবং সামগ্রিক উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করবে।