অবশেষে অপেক্ষার অবসান। দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করতে চলেছে বর্ষা। আজ দুপুরের পর থেকেই আকাশ কালো হয়ে উঠেছিল দমকা হাওয়া। আর তা স্বস্তি দিয়েছিল বঙ্গবাসীকে। আর তার কিছু সময়ের মধ্যেই নামল ঝেঁপে বৃষ্টি। যা তীব্র গরমের মধ্যে স্বস্তি দিল বঙ্গবাসীকে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দু’ থেকে তিন দিনের মধ্যেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটতে পারে। ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে বর্ষা পৌঁছে গিয়েছে এবং সেখানে ব্যাপক বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি জলপাইগুড়ির অধিকাংশ এলাকা এবং দার্জিলিং জেলার কিছু অংশও বর্ষার আওতায় এসেছে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর উত্তর সীমারেখা শিলিগুড়ির উপর দিয়ে অতিক্রম করছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় বর্ষা অগ্রসর হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কোনও জেলায় ৫০ শতাংশের বেশি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত হলে এবং একইসঙ্গে বায়ুর গতিপ্রকৃতিতে মৌসুমি পরিবর্তন দেখা গেলে সেই জেলায় বর্ষা প্রবেশ করেছে বলে ঘোষণা করা হয়।
ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় টানা বৃষ্টির জেরে স্বস্তি ফিরেছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গেও বুধবার থেকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার কলকাতায় বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বৃহস্পতিবার সেই সম্ভাবনা বেড়ে ৭০ শতাংশে পৌঁছতে পারে।
বর্তমানে একাধিক আবহাওয়াগত ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে, যার প্রভাবেই বৃষ্টি বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পূর্ব উত্তরপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এছাড়া পাঞ্জাব থেকে বিহার পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। পূর্ব বিহার থেকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চল পর্যন্ত আরও একটি অক্ষরেখা সক্রিয় রয়েছে। একইসঙ্গে উপ-হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের উপর একটি উচ্চস্তরের ঘূর্ণাবর্তও তৈরি হয়েছে। এই সমস্ত আবহাওয়াগত উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবেই রাজ্যে বর্ষার অগ্রগতি ত্বরান্বিত হচ্ছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গে সাধারণত ৫ জুন এবং দক্ষিণবঙ্গে ১০ জুন বর্ষা প্রবেশের স্বাভাবিক সময়। যদিও এ বছর দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা প্রবেশে সামান্য বিলম্ব হয়েছে।
এদিকে বৃষ্টির অপেক্ষায় কলকাতা আরও একটি অস্বস্তিকর গরমের দিন কাটিয়েছে। মঙ্গলবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের কাছাকাছি। তবে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অত্যন্ত বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল হতে হয়েছে শহরবাসীকে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, বর্ষার বৃষ্টি শুরু হলে এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলবে।




