রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীতে শীঘ্রই চিকিৎসা শিক্ষার নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। শান্তিনিকেতনে একটি আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটি All India Institute of Medical Sciences-এর আদলে গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানিয়েছেন, উপাচার্য এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সক্রিয়ভাবে উদ্যোগী হয়েছেন। তাঁর কথায়, “বিশ্বভারতীতে একটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় আবেদন ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবা যেমন উন্নত হবে, তেমনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও শিক্ষাক্ষেত্রে উপকৃত হবে।”
Advertisement
বোলপুর-শান্তিনিকেতন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার অভাব রয়েছে। এই সমস্যার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। জানা যায়, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-কেও উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যেতে হয়েছিল। পরবর্তীকালে তাঁর পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রাক্তন লোকসভা স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিকেও গুরুতর অসুস্থতার সময়ে চিকিৎসার জন্য শান্তিনিকেতন ছেড়ে অন্যত্র যেতে হয়েছিল।
Advertisement
২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর UNESCO বিশ্বভারতীকে বিশ্ব ঐতিহ্য (World Heritage) স্বীকৃতি দেয়। সেই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেডিক্যাল কলেজ চালুর উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা Pearson Memorial Hospital এবং Dinabandhu Andrews Memorial Hospital-কে ভবিষ্যতের বৃহত্তর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা অন্তত ২০০ হবে। শান্তিনিকেতনের মোলডাঙা এলাকায় বিশ্বভারতীর নিজস্ব জমিতে হাসপাতাল নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু ছাত্রছাত্রী বা কর্মীদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও চিকিৎসা পরিষেবা উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বীরভূম তথা দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
Advertisement



