• facebook
  • twitter
Monday, 1 June, 2026

স্বাধীনতার পর প্রথমবার মন্ত্রী পেল মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, মন্ত্রী পদে শপথ নিলেন আনন্দময় বর্মন

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ১ লক্ষ ৪ হাজারের বেশি ভোটে তৃণমূলের শঙ্কর মালাকারকে পরাজিত করে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভায় জয়ী হয়েছেন আনন্দময় বর্মন

স্বাধীনতার পর এই প্রথম মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা থেকে একজন জনপ্রতিনিধি রাজ্যের মন্ত্রীসভায় জায়গা পেলেন। এলাকার দু’বারের বিধায়ক আনন্দময় বর্মন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গোটা বিধানসভা এলাকাজুড়ে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ১ লক্ষ ৪ হাজারের বেশি ভোটে তৃণমূলের শঙ্কর মালাকারকে পরাজিত করে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভায় জয়ী হয়েছেন আনন্দময় বর্মন। এই জয়ের পর তাঁর মন্ত্রীত্বপদ প্রাপ্তিকে অনেকেই দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসানের ইঙ্গিত বলে মনে করেছেন।

মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব গ্রহণের পর আনন্দময় বর্মন জানিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য হবে মাটিগাড়া-নকশালবাড়িকে আধুনিক ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা। এলাকার নাগরিক পরিষেবা উন্নত করতে শিলিগুড়ি পুরনিগমের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ অথবা নতুন পুরসভা গঠনের বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর মতে, দ্রুত জনবসতি বৃদ্ধি পাওয়া এই অঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে উন্নত প্রশাসনিক কাঠামো প্রয়োজন। দুর্নীতি রোধ এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের পক্ষেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন নতুন মন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, জনসেবাকেই রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে দেখেন এবং কোনও ধরনের দুর্নীতি বা কাটমানিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের কাজ যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, সে দিকেও নজর থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

Advertisement

২০২১ সালের মে মাসে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন আনন্দময় বর্মন। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রাজেন সুন্দাসকে ৭০ হাজার ৮৪৮ ভোটে পরাজিত করেছিলেন তিনি। ছাব্বিশের বিধানসভায়ও ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯০৫ ভোটে জয়ী হন তিনি। ২০২৬-এর নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন আনন্দময়। এবারে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলায় ৫৪টি আসনের মধ্যে ৪০ টিতেই জয় হয়েছে বিজেপির। তার ফলস্বরূপ উত্তরবঙ্গকে পুরস্কৃত করল নতুন সরকার। আগেই পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন কোচবিহারের মাথাভাঙার বিধায়ক নিশীথ প্রামাণিক। এদিন তার পাশাপাশি মন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করলেন আনন্দময় বর্মন।

Advertisement

মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মনের মন্ত্রী হওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের আশা, এলাকার পরিকাঠামো, রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি ও নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন এবার আরও দ্রুত হবে। অনেকের মতে, একজন স্থানীয় বিধায়ক মন্ত্রী হওয়ায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাধারণ জীবনযাপন, অমায়িক ব্যবহার এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির জন্য পরিচিত আনন্দময় বর্মনের সামনে এখন বড় দায়িত্ব। উন্নয়ন ও সুশাসনের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি।

Advertisement