• facebook
  • twitter
Monday, 1 June, 2026

হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার ‘গোপন অভিযান’, ৩ সপ্তাহে ৭০ জাহাজ পার করানোর দাবি

পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরের মধ্যে সংযোগকারী হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ

ইরানের চোখ এড়িয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে গত ৩ সপ্তাহে অন্ততপক্ষে ৭০টি জাহাজ নিরাপদে পার করিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার মধ্যেই এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। 

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অধিকাংশ জাহাজই যাত্রাপথে নিজেদের ‘ট্রান্সপন্ডার’ বন্ধ রেখেছিল। সাধারণত এই যন্ত্রের মাধ্যমে জাহাজের অবস্থান ও গতিবিধি শনাক্ত করা যায়। ট্রান্সপন্ডার বন্ধ থাকায় জাহাজগুলিকে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং ইরানের নজর এড়িয়ে তারা যাতায়াত করতে সক্ষম হয়।

Advertisement

তবে কোন কোন জাহাজ এই পথ অতিক্রম করতে পেরেছে, বা তারা কোন দেশের ছিল, সেই বিষয়ে মুখ খোলেননি মার্কিন আধিকারিকরা। গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক ভারতীয় জাহাজও হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। তারা মার্কিন সহায়তা নিয়েছিল কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভারত সরকার শুধু জানিয়েছে, বিশেষ কূটনৈতিক ও কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হচ্ছে।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের উপকূল থেকে কিছুটা দূরে ওমানের কাছাকাছি বিকল্প পথ ব্যবহার করেই এই জাহাজগুলি চলাচল করছে। তবে ঝুঁকি রয়েছে এক্ষেত্রেও। কারণ ইরান যদি এই ধরনের গোপন গতিবিধির খবর পায় তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরের মধ্যে সংযোগকারী হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে। কিন্তু ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। উল্লেখ্য, সংঘর্ষ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করত। বর্তমানে সেই সংখ্যা অনেকটাই কমেছে।

এক সময় ইরান কার্যত প্রণালীটি বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সীমিত সংখ্যক দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। যদিও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বাহিনী নীরবে বেশ কিছু জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হতে সাহায্য করেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে মার্কিন সহায়তায় কিছু জাহাজ চলাচল করলেও জলপথের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

Advertisement