পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় ফের গ্যাস লিকের আতঙ্ক। শহরের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকার একটি কারখানায় বিষাক্ত গ্যাস লিক করে অন্তত ৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২ জন শ্রমিক। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতরা হলেন মান সিং, বয়স ৪৬, তাঁর ছেলে অমিত, ২৪ এবং অন্য এক শ্রমিক শ্রীরাম।
ভোররাতে ‘ডিপ টুলস’ নামে হ্যান্ড টুলস ও নাট-বল্টু তৈরির কারখানায় নর্দমা ও বর্জ্য নিষ্কাশনের লাইন পরিষ্কার করার কাজ চলছিল। সেই সময় হঠাৎ বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই শ্রমিকদের শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা শুরু হয়। অনেকের আবার অচেতন হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, মান সিং ও তাঁর ছেলে মেশিনের নীচে জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার করছিলেন। সেই সময় তাঁরা গ্যাসের সংস্পর্শে এসে ঘটনাস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েকজন শ্রমিককে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ৩ জনকে বাঁচানো যায়নি। অসুস্থ দুই শ্রমিক দীপক কুমার ও রাজেন্দ্র কুমার এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
লুধিয়ানা পুলিশের কমিশনার স্বপন শর্মা জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কী ধরনের গ্যাস লিক হয়েছে তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফরেনসিক দল ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ নমুনা সংগ্রহ করে তদন্ত চালাচ্ছে। এই ঘটনায় শিল্পাঞ্চল জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আশপাশের কারখানাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩-এও লুধিয়ানায় একই ধরনের গ্যাস লিক করে দুর্ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের দুর্ঘটনা মনে করিয়ে দেয় ১৯৮৪ সালের ভয়াবহ ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডির কথা, যেখানে মিথাইল আইসোসায়ানেট গ্যাস লিক হয়ে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত হন লক্ষাধিক মানুষ ।
Advertisement