• facebook
  • twitter
Sunday, 19 April, 2026

মোদীর ভাষণকে ভণ্ডামি বলে সমাজমাধ্যমে তোপ দাগলেন মমতা

সমাজমাধ্যমে তাঁর দেওয়া জবাবে কার্যত প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপির মুখোশ খুলে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো

সংসদে নারী সংরক্ষণ বিল পাশে ব্যর্থ হতেই বিরোধীদের নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্য দলগুলির সঙ্গে সরাসরি তৃণমূলের নাম করে সমালোচনা করেন মোদী। বিরোধীদের ‘নারী বিদ্বেষী’ বলে তোপ দাগেন। এবার মোদীর করা যাবতীয় অভিযোগের কড়া জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে তাঁর দেওয়া জবাবে কার্যত প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপির মুখোশ খুলে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

এক্স পোস্টে মমতা লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সততার সঙ্গে বিষয়টির সমাধান না করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার পথে গিয়েছেন। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে। পরিসংখ্যান দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।’ সংসদে তৃণমূলের মহিলা সদস্যের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে মমতা লেখেন, ‘লোকসভায় আমাদের নির্বাচিত সদস্যের হার ৩৭.৯ শতাংশ। রাজ্যসভায় আমাদের মহিলা প্রতিনিধি ৪৬ শতাংশ। নারী সংরক্ষণের বিরোধিতা করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।’

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, নারী সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়া মোদী সরকারের ব্যর্থতা। কিন্তু নিজেদের ভুল স্বীকার না করে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে এক্স পোস্টে  মমতা লেখেন, ‘মোদী সরকার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে নারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চক্রান্ত করেছিল। সে কারণেই আমরা  বিরোধিতা করেছি। আমরা ওদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়েছি। বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক সীমানা পুনর্নির্ধারন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের উপর আঘাত। আমরা কখনওই এটা মুখ বুজে মেনে নেব না।’

Advertisement

শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ভণ্ডামি বলেও তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এক্স পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি মোদীকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ‘পরের বার যখন আপনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, তা সংসদকক্ষ থেকে বলার সাহস দেখান। কারণ সেখানে আপনাকে জবাবদিহি, প্রশ্ন এবং সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে। আপনি গতকাল যা করেছেন, তা ভীরুতা, ভণ্ডামি এবং দ্বিচারিতা। আসলে ক্ষমতা ধরে রাখতে আপনি যে কোনও পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত, সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন। নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই আপনি মরিয়া হয়ে বিরোধীদের আক্রমণ করছেন।’

নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।  মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘২০২৩ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর নারী সংরক্ষণ বিল পাস হওয়ার পর প্রায় তিন বছর কেন অপেক্ষা করা হল? যখন একাধিক রাজ্যে নির্বাচন চলছে, তখন কেন তড়িঘড়ি এই বিল পাশ করানোর চেষ্টা? মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি কেন যুক্ত করা হল?’ একই সঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি, একমাত্র তাঁর দল বরাবরই নারীদের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

Advertisement