নরেন্দ্র মোদী সরকারের ১২ বছর পূর্ণ হয়েছে। তার জন্য শুক্রবার বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয় বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে। সেখানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে কী কী উন্নতি হয়েছে গোটা দেশে সেসবের খতিয়ান তুলে ধরলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এই কারণেই সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। সেখানে মোদী সরকারের এক যুগ নিয়ে নানা তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গত ১২ বছরের কৃতিত্ব নিজের বক্তব্যে ছত্রে ছত্রে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই উপলক্ষ্যে নয়াদিল্লিতে যে অনুষ্ঠান হয়েছিল সেখানে হাজির ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। নিজে হাতে ঝালমুড়ি বানিয়ে খাইয়ে ছিলেন। যে ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। এবার মুখ্যমন্ত্রী দেশের উন্নয়ন নিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পদে রেকর্ড গড়েছেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী নয়, নিজেকে তিনি প্রধান সেবক ভাবেন। তাঁর হাত ধরেই আবাস থেকে অন্ন সুরক্ষা যোজনার বাস্তবায়ন হয়েছে। তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বেই দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটেছে।’
অন্যদিকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নেতা হিসাবে দেশের সেবা করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী। ভারতবর্ষকে নতুন করে গড়ে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী বলেও দাবি করেন তিনি। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী একটানা সর্বাধিক দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশসেবা করেছেন। ভারতবর্ষকে পুর্ননিমাণ করেছেন। নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর বদলে দেশের সেবক বলে পরিচয় দিতে ভালবাসেন তিনি। দেশের জন্য কাজ করে চলেছেন। ১২ বছরের মূল কথা ছিল এনডিএ সরকারের রাষ্ট্র নির্মাণ-ভারতের ঐতিহ্যের পাশাপাশি বিকাশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। রাষ্ট্র নির্মান এবং রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজকে দেখি তাহলে সামনে অসংখ্য উদাহরণ দেখতে পাবেন। নরেন্দ্র মোদীর আমলে ৪ লক্ষ কিলোমিটার পাকা রাস্তা হয়েছে। ১৬৪টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন হয়েছে। এখন দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল উৎপাদনকারী দেশ ভারত। বিনামূল্য রেশন দেওয়া হচ্ছে ৮২ কোটি মানুষকে। ৬১.৮ শতাংশ দুধ উৎপাদন বেড়েছে। এই উন্নয়ন এবং বিশ্বাসের যাত্রা থামার নয়।’
তাছাড়া পরিকাঠামো উন্নয়ন, নতুন বিমানবন্দর তৈরি থেকে নতুন আইআইটি এবং এইমসের মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা-সহ সবই করেছেন প্রধানমন্ত্রী বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘ডবল ইঞ্জিন সরকারের লাভ আপনারা ইতিমধ্যেই পাচ্ছেন। আরও পাবেন। আর আমরা নয়, আপনারাই ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রচারক হয়ে যাবেন। ১ কোটিরও বেশি মানুষকে আয়ুষ্মানে যুক্ত করা ডবল ইঞ্জিনের অন্যতম কাজ। ২২ তারিখ আপনারা বুঝতে পারবেন, এই সরকার কীভাবে অর্থনৈতিক দিকটি সামলে পশ্চিমবঙ্গকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে। রেলের আধুনিকীকরণের স্বপ্ন সফল করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের প্রান্তিক এলাকার মানুষের উন্নয়নও হয়েছে তাঁর হাত ধরে। ২০১৪ সালে ভারত কী ছিল, আর ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে কী হয়েছে, তার পার্থক্য স্পষ্ট। আমাদের লক্ষ্য ২০৪৭ বিকশিত ভারত।’




