বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণে এক বিরল রাজনৈতিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ভবানীপুর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী প্রায় মুখোমুখি এসে পড়েন, যা স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
সকালের শুরু থেকেই ব্যতিক্রমী ভূমিকা নিতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সাধারণত ভোটের দিনে তিনি বিকেলের দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজের ভোট দিয়ে ফিরে যান। কিন্তু এদিন সকালেই তিনি বিভিন্ন বুথ পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়েন। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগের রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাণ্ডব চালিয়েছে, যার ফলে তিনি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সারারাত পরিস্থিতির উপর নজর রাখেন। সেই কারণেই সকালের এই তৎপরতা বলে তিনি জানান।
Advertisement
চেতলায় মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়ির সামনে গাড়ি থামিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন মমতা। ফিরহাদের অভিযোগ ছিল, আগের রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয়। সেই বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার পর মমতা চলে যান চক্রবেড়িয়ার ৮২ নম্বর বুথে, যেখানে তিনি দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেন।
Advertisement
এই সময়েই আচমকা সেখানে উপস্থিত হন শুভেন্দু অধিকারী। দু’জনের মধ্যে দূরত্ব ছিল মাত্র ৫০ মিটার। শুভেন্দুর সঙ্গে ছিল তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা। কিছুক্ষণ সেখানে থাকার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, তাঁর পক্ষে ২৬৭টি বুথে এজেন্ট রয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে ৯৭টি ক্যাম্প অফিস করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে এবং সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছেন।
মমতার তোলা কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে চাননি শুভেন্দু। তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্য ‘হতাশার বহিঃপ্রকাশ’। পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে এবং নজিরবিহীন এই পরিস্থিতি ভোটের দিনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
Advertisement



