• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 10 June, 2026

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে জুড়ল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র

দিঘার জগন্নাথ মন্দির সরিয়ে দেওয়া হল ‘জগন্নাথ ধাম’ নামাঙ্কিত বোর্ড। বসানো হয়েছে নতুন ফ্লেক্স। লেখা রয়েছে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার’।

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটাতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মন্দির চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়া হল ‘জগন্নাথ ধাম’ নামাঙ্কিত বোর্ড। তার বদলে বসানো হয়েছে নতুন ফ্লেক্স, যেখানে লেখা রয়েছে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার’।

বুধবার দিঘার জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নামফলক স্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে কার্যত স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, সরকারি নথিতে যে নাম রয়েছে, ভবিষ্যতে সেই নামেই পরিচিত হবে গোটা কমপ্লেক্সটি।

উল্লেখ্য, পূর্বতন সরকারের আমল থেকেই দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে ‘জগন্নাথ ধাম’ হিসেবে প্রচার করা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সরকারি নথিতে প্রকল্পটির নাম ছিল ‘কালচারাল সেন্টার’, কিন্তু নির্মাণের পর বিভিন্ন জায়গায় ‘ধাম’ শব্দটি ব্যবহার করা শুরু হয়। সেই সময় বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, পুরীর জগন্নাথ ধামের সঙ্গে তুলনা টেনে এমন নামকরণ অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করছে।

সম্প্রতি রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, দিঘার এই প্রকল্পকে সরকারি নথি অনুযায়ী ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার’ নামেই পরিচিত করা হবে। মঙ্গলবার তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানান। তার পরের দিনই মন্দির চত্বরে নতুন ফ্লেক্স বসিয়ে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

এর আগে মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বারের বাইরে বড় করে ‘জগন্নাথ ধাম’ লেখা ছিল। প্রশাসনের উদ্যোগে সেই বোর্ড ইতিমধ্যেই খুলে ফেলা হয়েছে। নতুন নামফলক স্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল, মন্দির ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম সদস্য এবং কলকাতা ইস্কনের সভাপতি রাধারমণ দাস-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, “আমরা কোনও প্রকল্পের পরিবর্তন করতে চাই না, প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে চাই। আগের সরকারের প্রকল্প বাতিল করা হয়নি। তবে দিঘার জগন্নাথ ধাম নিয়ে যেহেতু বিতর্ক ছিল, তাই ‘ধাম’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘দিঘা জগন্নাথ মন্দির ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ নাম দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে প্রশাসনিক নিয়ম মেনে এবং সনাতনী ভাবধারাকে সম্মান জানিয়েই সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে রাধারমণ দাসের বক্তব্য, “রাজনৈতিক বিতর্ক ভুলে সকলের উচিত ভগবান জগন্নাথের ভক্তি ও আদর্শে নিজেকে নিবেদিত করা। পুরী হোক বা দিঘা, ভক্তদের কাছে জগন্নাথই প্রধান।”

প্রসঙ্গত, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে ওড়িশা সরকারের সঙ্গে মতবিরোধও তৈরি হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পর ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি পাঠান। পরে পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্রের উপস্থিতিতে শুভেন্দু জানান, ওড়িশার প্রস্তাব মেনে ‘ধাম’ শব্দটি সরিয়ে দেওয়া হবে। সেই ঘোষণার পরের দিনই বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা গেল দিঘার জগন্নাথ মন্দির চত্বরে।