সোনা ও রুপোর বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ধারাবাহিক মূল্যপতনের প্রভাব পড়েছে মূল্যবান ধাতুর ওপর। গত কয়েকটি ট্রেডিং সেশনে সোনা ও রুপোর দাম ক্রমাগত নিম্নমুখী। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন ডলারের শক্ত অবস্থান এবং বন্ডের বাড়তি ফলনের কারণে বিনিয়োগকারীদের একাংশ সোনা থেকে সরে অন্য সম্পদে ঝুঁকছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রায় ১১ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। স্পট গোল্ড প্রতি আউন্স প্রায় ৪,১৮১ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা আগের সেশনের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দামও কমে প্রায় ৪,২০৫ ডলারে পৌঁছেছে। রুপোর ক্ষেত্রেও চাপ স্পষ্ট, যার দাম প্রতি আউন্স প্রায় ৬৪ ডলারের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনের পেছনে অন্যতম কারণ মার্কিন মুদ্রানীতি নিয়ে বাজারের নতুন প্রত্যাশা। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সূচক প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হওয়ায় অনেকের ধারণা, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে বজায় রাখতে পারে। এমনকি বছরের শেষ দিকে আরও একবার সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সুদের হার বৃদ্ধি পেলে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি আগ্রহ সাধারণত কমে যায়। অন্যদিকে ট্রেজারি বন্ডের ফলন বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সেখানে বেশি আকৃষ্ট হন। এর ফলে সোনা ও রুপোর বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।
শক্তিশালী মার্কিন ডলারও সোনার দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্য ডলারে নির্ধারিত হয়। তাই ডলারের দাম বাড়লে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এর প্রভাবে চাহিদা কমে এবং দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা বাজারে নতুন অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। সাধারণত ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ে। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। সংঘাতের জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর বদলে কঠোর নীতি বজায় রাখতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
রুপোর বাজারে চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি। কারণ সোনার পাশাপাশি রুপোর উল্লেখযোগ্য শিল্প ব্যবহার রয়েছে। ইলেকট্রনিক্স, সৌরশক্তি এবং উৎপাদন খাতে এর চাহিদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় ভবিষ্যতে রুপোর চাহিদা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। সেই কারণেই গত এক সপ্তাহে রুপোর দাম সোনার তুলনায় বেশি হারে কমেছে।
শুধু সোনা ও রুপো নয়, প্ল্যাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের মতো অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও পতনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে ধাতুর বাজারে এখন বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছেন।




