খনি অঞ্চলের দীর্ঘদিনের আতঙ্ক ‘ধস’ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী সভা থেকে তিনি ঘোষণা করেন, ধসপ্রবণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেলে প্রতিটি পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং দু’টি করে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘরবদলের সমস্ত খরচও বহন করবে রাজ্য সরকার।
শনিবারের সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, ‘মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই। আমরা চাই না কেউ বিপদের মধ্যে থাকুন।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ইতিমধ্যেই প্রায় ২,০০০টি ফ্ল্যাট তৈরি হয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে আরও ৪,০০০টি ফ্ল্যাট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই পুনর্বাসন কারও উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
Advertisement
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বড় ধস নামলে বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে জোর করছি না। শুধু অনুরোধ করছি, নিরাপদ ভবিষ্যতের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিন।’
Advertisement
এদিন রাজ্যের উন্নয়নমূলক ঘোষণার পাশাপাশি নির্বাচনী মঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। ভোটার তালিকা নিয়ে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘একটি বুথে যদি ৫০০ জনের নাম থাকে, সেখানে ৪০০ জনের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। এটা কীভাবে সম্ভব?’
তিনি আরও বলেন, যাঁদের নাম তালিকায় নেই, তাঁদের ট্রাইবুনালে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিকে গণতন্ত্রের পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলই সমস্ত সুবিধা ভোগ করবে। এই নীতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, বাংলার ক্ষতি করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত দেশের ক্ষমতাও হারাতে হবে বিরোধীদের।
এদিনের ভাষণে সম্প্রীতির বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলায় সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে উৎসব পালন করে। তাঁর কথায়, ‘সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে হয়, তাহলেই সমাজ এগোয়।’
Advertisement



