কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, পদত্যাগের আগে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি চেয়েছিলেন। দলনেত্রীর সম্মতি পাওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের ফলে কলকাতা পুরসভার বর্তমান বোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মেয়রের ইস্তফার মাধ্যমে কলকাতা পুরসভার বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মেয়র হিসেবে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। তিনি দাবি করেন, কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নির্বাচিত পুরপ্রতিনিধিদের ভূমিকা ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়কদের প্রভাবেই কার্যত পুরসভার কাজকর্ম পরিচালিত হচ্ছে।
ফিরহাদের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। তৃণমূলের একাংশের দাবি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মতামত উপেক্ষা করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল। অন্যদিকে বিরোধী শিবির অবশ্য এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই দাবি করেছে।
উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভা আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী কোনও মেয়র পদত্যাগ করতে চাইলে তাঁকে পুরসভার চেয়ারপার্সনের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিতে হয়। বর্তমানে চেয়ারপার্সন পদে রয়েছেন মালা রায়। তবে চেয়ারপার্সন অনুপস্থিত থাকলে মেয়র তাঁর পদত্যাগপত্র পুর কমিশনারের কাছেও জমা দিতে পারেন। সেই নিয়ম মেনেই ফিরহাদ হাকিম তাঁর ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন বলে জানা গিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা পুরসভার অন্যতম মুখ ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। মেয়র হিসেবে শহরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত একাধিক উদ্যোগের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। ফলে তাঁর পদত্যাগ শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন নজর কলকাতা পুরসভার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নতুন মেয়র নির্বাচন হবে, নাকি পুরবোর্ডের কাঠামোয় আরও বড় কোনও পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এই বিষয়ে স্পষ্ট ছবি সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।




