• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 3 June, 2026

৬০ বিক্ষুব্ধ বিধায়কের সই নিয়ে বিধানসভায় ঢুকলেন ঋতব্রত

প্রায় ৬০ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র নিয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে দেখা যায় একাধিক পরিচিত তৃণমূল বিধায়ককে।

জল্পনা ছিল আগেই। বুধবার সেই জল্পনাই যেন আরও জোরালো হল রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙনের সম্ভাবনা নিয়ে যখন নানা মহলে আলোচনা চলছে, তখন বিধানসভায় একসঙ্গে বহু তৃণমূল বিধায়কের উপস্থিতি নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।

বুধবার সকালে প্রায় ৬০ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র নিয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে দেখা যায় একাধিক পরিচিত তৃণমূল বিধায়ককে। উপস্থিত ছিলেন অরূপ রায়, ডোমজুড়ের তাপস মাইতি, মহেশতলা, কুলপি, কেশপুর, সামসেরগঞ্জ ও হরিহরপাড়ার বিধায়করা। ছিলেন লালগোলার বিধায়ক আব্দুল আজিজও। পাশাপাশি বিধানসভায় প্রবেশ করতে দেখা যায় শিউলি সাহা, রিয়াজ হুসেইন, ভগবানগোলার বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস, আক্রুজ্জামান, দিনেন রায়, সাবিনা ইয়াসমিন এবং পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীর জানাকে। হাওড়া জেলার একাধিক বিধায়কও এদিন উপস্থিত ছিলেন।

বিধানসভার ভিতরে এবং বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়লেও অধিকাংশ বিধায়কই এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা নিজেদের সাংবিধানিক ও বিধানসভা-সংক্রান্ত কাজের জন্যই এসেছেন। বিরোধী দলনেতা কে হবেন বা দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দলীয় স্তরেই নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন অনেকে।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে অন্য একটি বিষয়। বিধায়কদের অনেকেই দলনেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করলেও, বিরোধী দলনেতা বা বিধানসভায় দলের নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে দেখা যায়নি তাঁদের। এই অবস্থান থেকেই নতুন করে জল্পনা দানা বেঁধেছে।

সূত্রের খবর, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনেই ৬০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ একটি চিঠি বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সেই চিঠি জমা পড়লে বিধানসভার ভিতরে রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট করতে স্পিকার স্বাক্ষরকারী বিধায়কদের ব্যক্তিগতভাবে ডেকে তাঁদের অবস্থান জানতে চাইতে পারেন। সেই কারণেই একে একে সমস্ত স্বাক্ষরকারী বিধায়কের বিধানসভায় উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও পক্ষই ভাঙনের কথা স্বীকার করেনি। ফলে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে উঠলেও চূড়ান্ত ছবি স্পষ্ট হতে কিছুটা সময় লাগবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।