• facebook
  • twitter
Sunday, 10 May, 2026

তফসিলি শংসাপত্রে দুর্নীতির তদন্তে কড়া বার্তা ক্ষুদিরাম টুডুর, নিশানায় আধিকারিকেরাও

রানিবাঁধের বিজেপি বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডুর অভিযোগ, তৃণমূল আমলে বহু ভুয়ো ও গরমিল থাকা এসসি শংসাপত্র তৈরি হয়েছে

তৃণমূল জমানায় তফসিলি শংসাপত্র প্রদান নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার সদস্য ক্ষুদিরাম টুডু। রবিবার সকালে জেলার জাহের থানে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন তাঁকে তাঁদের রীতি মেনে বরণ করেন। বাঁকুড়ার জাহের থানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নবনিযুক্ত মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কাজগুলির মধ্যে অন্যতম হবে ভুয়ো তফসিলি শংসাপত্রের তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
রানিবাঁধের বিজেপি বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডুর অভিযোগ, তৃণমূল আমলে বহু ভুয়ো ও গরমিল থাকা এসসি শংসাপত্র তৈরি হয়েছে। সেই শংসাপত্র ব্যবহার করে অনেকেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, এই অনিয়মে যাঁরা যুক্ত, সেই সরকারি আধিকারিকদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। ভুয়ো শংসাপত্রের ভিত্তিতে যাঁরা সুবিধা নিচ্ছেন, তাঁদের সেই সুবিধা বাতিল করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিপুল ভোটে জয়লাভ করে এ বার রাজ্যে প্রথমবার সরকার গড়েছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে জায়গা পেয়েছেন জঙ্গলমহলের রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ফের জঙ্গলমহল থেকে কোনও বিধায়ক পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় খুশির হাওয়া এলাকায়। এই খবরে ক্ষুদিরাম টুডুর বাড়ি বাগডুবি গ্রামের বাসিন্দারা খুব খুশি। তার দাদা-বৌদি সহ পরিবারের সদস্যরাও খুব আনন্দিত। গ্রামের বাসিন্দারাও আনন্দে আত্মহারা। তাদের আশা, বাড়ির ছেলে মন্ত্রী হওয়ায় এবার এলাকার ভাল উন্নয়ন হবে।
প্রত্যন্ত বাগডুবি গ্রামের বাসিন্দা ক্ষুদিরাম পেশায় শিক্ষক। ২০১৬ ও ২০২১ সালে পরাজিত হলেও ২০২৬ সালে রানিবাঁধ কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয় পান তিনি। স্থানীয়দের আশা, তাঁর হাত ধরে জঙ্গলমহলের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানীয় জল ও রাস্তার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের পথ খুলবে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের হস্টেল ও আশ্রমের উন্নয়ন, পিছিয়ে পড়া সমাজের অগ্রগতি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে রাজ্যের সুনাম ফেরানোই তাঁর মূল লক্ষ্য। তাঁর স্ত্রী মালতী টুডু হেমব্রম, যিনি পেশায় আশাকর্মী, জানান মানুষের সমস্যার সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয়ই ক্ষুদিরামকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

Advertisement

Advertisement