দেবী দুর্গা অশুভ শক্তি দূর করে শুভ শক্তির সূচনা করেন। অশুভ শক্তি হিসেবে মহিষাসুরকে তিনি বধ করেছিলেন। পুরাণ অনুসারে, দশভুজা দেবী দুর্গার হাতে পরাজিত হয়েছিলেন অসুর। দেবী দুর্গার এই বিজয় গাথাতে মেতে ওঠে বাঙালি। অন্যদিকে পুরুলিয়ার একটি গ্রামে দেখা যায় ঠিক এর উল্টো চিত্র। পুরুলিয়ার এই গ্রামে শারদীয়ার সময় কোনও রকম আনন্দোৎসব হয় না। পাঁচদিন ধরে পালিত হয় শোক। এই গ্রামের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ দুর্গাপুজো করেন না। তার বদলে ‘হুদুড় দুর্গা’ পালিত হয়।
সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষের বিশ্বাস হুদুড় ছিলেন তাঁদের পূর্বপুরুষ এবং পরাক্রমী রাজা। হিন্দু পুরাণে যিনি মহিষাসুর, তিনিই এই সম্প্রদায়ের কাছে ‘হুদুড়’। যাঁকে উচ্চ বর্ণের নারী ‘দুর্গা’ ছলনা করে হত্যা করেছিলেন। সেই ঘটনাকে স্মরণ করেই পালিত হয় ‘হুদুড় দুর্গা’।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: ডাকের সাজে সাবেকিয়ানার প্রতিফলন মা দুর্গার মুর্তিতে
ঝাড়খণ্ড এবং জলপাইগুড়ি জেলায় ‘অসুর’ নামে একটি আদিবাসী গোষ্ঠী রয়েছে। মহিষাসুরের উপাসক বিহার এবং মধ্যপ্রদেশও রয়েছে। তাঁদের দাবি, তাঁরা মহিষাসুরের বংশধর। দুর্গাপুজোর সময় মহিষাসুর পুজোর মধ্যে দিয়ে শোক পালন করে থাকে এই সম্প্রদায়ের মানুষরা। পুরুলিয়ার ‘ভুলুরডি’-তে ২০০৩ সালে প্রথম অসুর পুজোর শুরু হয়।
নৃতাত্ত্বিকদের মতে বাংলার প্রাচীন জনগোষ্ঠী (নিষাদ, কোল, ভীল) মানুষেরা অসুর গোষ্ঠীভুক্ত। আদিবাসী লোককথা অনুযায়ী ‘হুদুড়দুর্গা ঘোডাসুর’ অর্থাৎ রাজা মহিষাসুর যুদ্ধে বিদেশি আর্য নারীর কাছে পরাজিত হয়ে রাজ্যপাট হারিয়েছিলেন। বৈদিক তথা হিন্দুত্বের বশ্যতা স্বীকার করানো ছিল মূল উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: দুর্গাপুজোয় ঢাকের বোলে ধুনুচি নৃত্য বাঙালির আবেগ
‘দাশাই পরব’ অসুর আদিবাসীদের একটি শোক পালনের পরব। পাঁচ দিন ধরে চলে এই শোক পালন। বিদেশিরা তাঁদের প্রিয় রাজাকে এক নারী দিয়ে হত্যা করিয়েছে। তাই নারীর ছদ্মবেশে যোদ্ধারা তাঁদের রাজাকে খুঁজতে বেরোয়। মুণ্ডা, কোল সম্প্রদায়ের আদিবাসীরা দাবি করেন দুর্গা তাঁদের মেয়ে। হাঁড়ি সম্প্রদায়েরও দাবি দুর্গা অর্থাৎ দেবী চণ্ডী তাঁদের মেয়ে। দেবতারা তাঁকে দিয়ে তাঁদের রাজাকে হত্যা করিয়েছে। আজও ‘ হায়রে ও হায়রে’ বলে ভুরাং নাচের মাধ্যমে রাজাকে খোঁজা হয়।
দেখুন: বক্সা টাইগার রিজার্ভে বাঘ পুনর্বাসন, উপস্থিত শুভেন্দু ও ভূপেন্দ্র যাদব