দুর্গাপুজোয় অষ্টমী কিংবা নবমীর রাত ধুনুচি নৃত্য (Dhunuchi) ছাড়া অসম্পূর্ণ। মাটির ধুনুচিতে (Dhunuchi) ধূপ ও ধুনো নিয়ে তাতে আগুন জ্বালিয়ে হাতে বা মুখে নিয়ে ঢাকের বোলের সঙ্গে নাচে মেতে ওঠা পুজোয় এক অন্যমাত্রা যোগ করে।
পুরাণ মতে মহিষাসুর বধের আগে শক্তির সঞ্চয়ের জন্য ধুনুচি নাচে মেতেছিলেন মা দুর্গা (Durga Puja)। সেই থেকে বিশ্বাস চলে আসছে, নৃত্যের মাধ্যমে মা দুর্গার (Durga Puja) কাছে নিজেকে সমর্পণ করা। আর তাতে দূর হয় সমস্ত অশুভ শক্তি। জ্বলন্ত ধুনুচি নিয়ে এই নৃত্য রীতি তাই চলে আসছে বছরের পর বছর।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: দুর্গাপুজোয় ঢাকের বোলে মেতে ওঠে বাঙালি
ধুনচি (Dhunuchi) অর্থাৎ ধূপদানি। সেই থেকে এসেছে ধুনুচি (Dhunuchi) নৃত্য শব্দটি। ধুনুচি (Dhunuchi) মাটির তৈরি হওয়ায় এর নকশা তাপ নিরোধক হিসেবে কাজ করে। ফলে নৃত্যশিল্পীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে এটি হাতে ধরে রাখতে পারেন।

এই নৃত্যের সৌন্দর্য নাচের আঙ্গিকের মধ্যেই নিহিত। নৃত্যশিল্পীরা প্রায়শই দুই হাতে দু’টি ধুনুচি (Dhunuchi) নিয়ে ঢাকের তালে তালে নৃত্য পরিবেশন করেন। কেউ কেউ আবার দাঁতের ফাঁকে আরও একটি ধুনুচি নিয়ে নৃত্যের নৈপুণ্য দেখিয়ে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নারীরাও এই নৃত্যে অংশগ্রহণ করছেন। যা এর সমৃদ্ধি ও বৈচিত্র্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: ‘নবপত্রিকা’ দেবী দুর্গার প্রতীকীরূপ
কিংবদন্তী অনুসারে, দেবী দুর্গা ও মহিষাসুরের মধ্যে যুদ্ধের সময় তাঁর ভক্তরা দেবীর উদ্দেশে শক্তি ও সামর্থ্য সঞ্চার করতে এই নৃত্য পরিবেশন করেছিলেন। অশুভ শক্তির বিনাশ করে শুভ শক্তির আগমণ জানানো হয়। এই নৃত্য শুধু একটি ঐতিহ্য নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির স্পন্দন, যা প্রাচীন রীতিকে প্রতিধ্বনিত করে।
দেখুন:




