দুর্গাপুজোয় ঢাক বাজবে না বাঙালি ভাবতেই পারে না। ঢাকে কাঠি পড়লেই বাঙালি মেতে উঠে শারদোৎসবে। ঢাকের বোল ছাড়া দুর্গাপুজো অসম্পূর্ণ। শারদোৎসবে ঢাক সেজে ওঠে কাশফুলে। ঢাকিরা বাঁ কাঁধে ঢাক নিয়ে বোল তোলেন। আর সেই বোলে নেচে ওঠে আপামর বাঙালির মন।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: লক্ষ্মী-সরস্বতী ও গণেশ-কার্তিক কি দুর্গারই সন্তান?
বাংলা এবং আসাম মূলত এই দুই জায়গাই ঢাকের উৎপত্তিস্থল। পূর্ববঙ্গ অর্থাৎ বাংলাদেশে ঢাকের জন্ম হলেও ধীরে ধীরে তা এপারের উৎসবে প্রধান অঙ্গ হয়ে উঠেছে। শাস্ত্র মতে, অশুভের বিনাশকালে ঢাক, শঙ্খ, কাঁসর-ঘণ্টা বাজিয়ে শুভশক্তির সূচনা করা হয়েছিল। দুর্গাপুজো ছাড়াও কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো, বাসন্তী পুজোতে ঢাকের আওয়াজ এক অন্য মাত্রা যোগ করে।

বৈদিক যুগেও ঢাকের প্রচলন ছিল। ‘ডাক’ থেকে এসেছে ‘ঢাক’ শব্দটি। এই ডাক হল উৎসবের। আগে গ্রামের মানুষদের পূজা পার্বণে ঢাক বাজিয়ে এক জায়গায় জড়ো করা হত। মানুষের মনের অন্ধকার সরিয়ে আনন্দের বোল বাজানোই ছিল ঢাকের কাজ। ঢাকের বোলে দেবীর আগমন রটিয়ে দেওয়া হতো। ঢাকের বোলে শুভশক্তির উদযাপন শুরু হতো।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: ‘নবপত্রিকা’ দেবী দুর্গার প্রতীকীরূপ
ঢাক তৈরি করতে লাগে বড় আকারের দুই মুখবিশিষ্ট কাঠের খোল। খোলের দুই মুখে চামড়া দিয়ে ছাউনি দেওয়া হয়। কাঠের দু’টি সরু কাঠি দিয়ে তার গায়ে আঘাত করে বোল তোলা হয়। বাজানো হয়ে গেলে কাঠি দু’টিকে ঢাকের বিশাল পেটে গুঁজে রাখা হয়।

পুজোর পাঁচ দিন পাঁচ রকম আওয়াজে বাজে ঢাক। সন্ধিপুজোর ঢাকের বাদ্যি একেবারে আলাদা। ঢাক যাঁরা বাজান তাঁরা সাধারণত বংশ পরম্পরায় বাজিয়ে থাকেন। টাকুর্দা, বাবা নাতি এভাবে বংশপরম্পরায় ঢাক বাজানো হয়ে থাকে। তবে ঢাকিদের জীবন কাটে খুবই কষ্টের। পুজো বাদে বিকল্প জীবিকা হিসেবে অনেকেই বছরের অন্য সময়ে ভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকেন। এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মনুষদের উপার্জনও কম। তবে দুর্গাপুজো যতদিন থাকবে ততদিন বাঙালি ঢাকের বোলে মেতে উঠবে।




