• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 25 June, 2026

আরজি কর মামলায় সিবিআইকে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের, নবগঠিত সিটকে তদন্তের নির্দেশ

মৃতার পরিবারের তরফে সওয়াল করা হয়, সিবিআই তদন্তে ব্যর্থ হলে মামলাটি সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হোক। যদিও বিচারপতি শম্পা সরকার জানান, আদালত এখনও সিবিআইয়ের আধিকারিকদের উপর আস্থা রাখছে এবং তারা যথাযথ তদন্ত করবেন বলেই আশা করা হচ্ছে

আরজি কর মেডিক্যালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দিল সিবিআই। তবে তদন্তের গতি ও পদ্ধতি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল ডিভিশন বেঞ্চ।

শুনানির সময় বিচারপতি শম্পা সরকার সিবিআইকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা বলছেন মৃতার মায়ের বক্তব্য রেকর্ড করেছেন, সেই বক্তব্য কোথায়?’ জবাবে সিবিআই জানায়, মৃতার মায়ের বক্তব্য লিখিতভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এরপরেই বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ কড়া মন্তব্য করে বলেন, ‘এই মামলায় সিবিআই অত্যন্ত গা-ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছে।‘ তিনি আরও বলেন, হয় রাজ্য সরকার বলুক তারা ন্যায়বিচার দিতে ব্যর্থ হয়েছে, না হলে বলুক তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার জন্য কেউ দায়ী নয়। চার্জশিট দাখিলের পর এক বছর সাত মাস কেটে গিয়েছে, অথচ তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।‘ তদন্ত কবে সম্পূর্ণ হবে তা জানতে চান সিবিআইয়ের কাছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মন্তব্য করেন, ‘প্রয়োজনে এই মামলা আমরা সিবিআইয়ের হাত থেকে সরিয়ে নেব। নির্দেশে এটাও লিখব যে সিবিআইয়ের আধিকারিকরা হাইকোর্টের নির্দেশ বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং যথাযথ তদন্তও করতে পারেননি।‘

বিচারপতি শম্পা সরকারও বলেন, ‘আমাদের নির্দেশের অর্থ ছিল আগের তদন্তকারী আধিকারিকদেরর কাছ থেকে মামলা সরিয়ে নবগঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) এর হাতে তুলে দেওয়া। সেটাই কি আপনারা বুঝতে পারছেন না? নিজেদের সহকর্মীদের প্রতি এতটাই সহানুভূতিশীল কেন?’

এদিন মৃতার পরিবারের তরফে সওয়াল করা হয়, সিবিআই তদন্তে ব্যর্থ হলে মামলাটি সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হোক। যদিও বিচারপতি শম্পা সরকার জানান, আদালত এখনও সিবিআইয়ের আধিকারিকদের উপর আস্থা রাখছে এবং তারা যথাযথ তদন্ত করবেন বলেই আশা করা হচ্ছে।

আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, নবগঠিত সিটে আগের কোনও তদন্তকারী আধিকারিককে রাখা যাবে না। পাশাপাপাশি তদন্তের পরবর্তী পর্যায় সম্পূর্ণ করতে সিবিআইকে আরও সময় দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ আগস্ট।